কক্সবাজারের টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পে দায়িত্বরত আনসার ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নুরুল আবছার নামে এক আসামি। মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিরাজ উদ্দিনের কাছে তিনি জবানবন্দি নেন।
কক্সবাজার আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি নুরুল আবছার জানিয়েছেন- আনসার ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় জড়িত রয়েছে রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন আরএসও । আর এ হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ওমর ফারুক নামে এক পাকিস্তানি নাগরিক। তারা হামলার পরপরই মিয়ানমারে চলে যায় এবং অস্ত্রগুলো ওখানেই নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমার ভিত্তিক কথিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে আনসার কমান্ডারকে হত্যা ও অস্ত্র লুট করে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বর্তমানে মিয়ানমারে অবস্থান করা এক পাকিস্তানি নাগরিক। আনসার ক্যাম্পে অস্ত্র লুটে অংশ নেয় মিয়ানমার, চট্টগ্রামের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও একদল স্থানীয় ডাকাত। মূলত নতুন উদ্যমে সংগঠিত হয়ে তৎপরতা আরও জোরদার করার জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করতেই তারা এ হামলা চালিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে আসামি নূরুল আবছার।
প্রসঙ্গত, ১৩ মে গভীর রাতে টেকনাফ উপজেলার মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আনসার ব্যারাকে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় আনসারের ক্যাম্পে দায়িত্বরত আলী হোসেন নামের এক কমান্ডারকে হত্যা করে ১১টি অস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
/এআর /এএইচ/