একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হবিগঞ্জের ৩ রাজাকারের একজনের ফাঁসির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও বাকি দু’জনের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে মন ভরেনি এ মামলার সাক্ষীসহ ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার সদস্যরা। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল করার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। অবশ্য একজনের ফাঁসি হওয়াতেও তারা উল্লাস প্রকাশ করে এলাকায় মিষ্টি বিতরণসহ আনন্দ মিছিল করেছেন।
জেলার বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া এবং তাদের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে হত্যা, ধর্ষণসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতেন। আর তাদের বড় ভাই কলমধর ছিলেন খাগাউড়া ইউনিয়ন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান এবং ছোট ভাই মোস্তফা ছিলেন রাজাকার কমান্ডার। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কলমধর ও মোস্তফা নিহত হন।
এসব অপরাধের ঘটনায় ২০০৯ সালে হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খাগাউড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আকল আলীর স্ত্রী ভিংরাজ বিবি বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সরিয়ে নেওয়া হয়। মামলার রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার সকালে মহিবুর রহমানকে ফাঁসি এবং বাকি দু’জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে মুজিবুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাকের ফাঁসি না হওয়ায় হতাশ নিহত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও এলাকাবাসী। তারা আপিলের মাধ্যমে এই দুই আসামির ফাঁসির ব্যবস্থার জন্য দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
মহিবুরের ফাঁসি, মজিবুর ও রাজ্জাকের আমৃত্যু কারাদণ্ড
এ ব্যাপারে নিহত মুক্তিযোদ্ধা আকল আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী পুলিশ বিবি জানান, রায়ে আমি খুশি। তবে সব আসামির ফাঁসি হলে আমার স্বামীর আত্মা শান্তি পেতো। মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত আকল আলীর ছোট ভাই মস্তোর আলী জানান, একাত্তরে ৩ রাজাকার এলাকায় যে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটতরাজ করেছে তা প্রমাণ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে আমি সন্তোষ প্রকাশ করছি। তবে আমাদের দাবি সরকার আপিল করে অপর দুই রাজাকারের যেন ফাঁসি নিশ্চিত করে। সব আসামির ফাঁসি হলে এলাকাবাসী শান্তি পাবে।
মেজর জেনারেল এমএ রবের ভাগ্নে ও মামলার সাক্ষী খসরু মিয়া জানান, এ রায়ে তিনি আসামিরই ফাঁসি না হওয়ায় আমি খুবই মর্মাহত ও দুঃখিত। কেননা একাত্তরে তারা যে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটতরাজ করেছে তা গ্রামবাসীর মনে হলে এখন গা শিউরে উঠে। তাই আমাদের একটাই দাবি, সরকার এ মামলায় আবার আপিল করবে এবং অপর দুই রাজাকারের ফাঁসির ব্যবস্থা করবে।
নিহত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকল আলীর কন্যা রওশন আরা জানান, আজকে রায়ের পর আমাদের পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে। তবে আমরা চেয়েছিলাম, সব আসামিরই ফাঁসি হবে।
/টিএন/
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি