লক্ষ্মীপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের রায়পুর-হায়দরগঞ্জ সড়কের ১১ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট-সুরকি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। অনেক স্থানে সড়কের দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে রায়পুর ও হায়দরগঞ্জের লক্ষাধিক অধিবাসীকে। ঝুঁকি এড়াতে কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সড়কে গর্তের পরিমাণ এতোটাই বেশি যে পুরো রাস্তা জুড়েই গাড়ি চলে হেলেদুলে। ব্যবহার অনুপযোগী এই ১১ কিলোমিটার রাস্তা যেতে ২ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর গত বছর ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে গর্ত ভরাটের কথা বলা হলেও সেখানে উন্নয়নের কোনও চিহ্ন নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রায়পুর-হায়দরগঞ্জ ও হাইমচর-চরভৈরবী হয়ে যাওয়া সড়কটি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। রায়পুর-হায়দরগঞ্জ সড়কের দুই পাশে রয়েছে ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি মাদ্রাসা ও ২টি বেসরকারি কলেজ। এ ছাড়াও রয়েছে একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১টি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি বাজার। সংস্কারের অভাবে ব্যস্ততম এই সড়কটি যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ছোট ছোট গর্তে ভরা রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করা গাড়ির চাকা ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই যাত্রীদের কাছ থেকেও দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হয়।
দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য রায়পুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করা হয়েছে। বর্তমানে সড়কটিতে গাড়ি তো দূরের কথা হেঁটে যাওয়াও বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আক্তার হোসেন ভূঁইয়া জানান, এ সড়কে ১১ কিলোমিটার অংশকে আরও প্রশস্ত ও সংস্কারের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে কাজ শুরু হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।
/এসএনএইচ/টিএন/
আরও পড়তে পারেন : খাদ্যের অভাবে অসহায় মাদারীপুরের দেড় হাজার বানর!