এক সময়ে অনেক নামি আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচিত থাকলেও ইদানিং জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে পর্যটন কর্পোরেশনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার হোটেল শৈবাল। অন্য হোটেল-মোটেলগুলোতে দুই-তিন বছর পরপর পরিবর্তন আনা হলেও বিশ বছরেও চেহারায় কোনও পরিবর্তন আসেনি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির। আর এ কারণে এই হোটেলটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর সেখানে ৮শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের পাঁচ তারকা হোটেল।
পর্যটন শিল্পের বহুমাত্রিক বিকাশের জন্য নতুন পরিকল্পনায় শৈবাল ঘিরে অত্যাধুনিক সুবিধা যুক্ত করে ৮শ’ কোটি টাকার পরিকল্পনায় এগুচ্ছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬টি বিচ ভিলা, ১৬৮টি পুল ভিলা, ২৬টি ওয়াটার ভিলা, ১৮ হোলের গলফ কোর্স, ক্লাব হাউস, ২৫০ কক্ষের পাঁচ তারকা মানের হোটেল টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজারে পাঁচ তারকা মানের সব সুবিধা দিয়ে নতুন করে সাজবে হোটেল শৈবাল। আর পর্যটন হোটেল ‘প্রবাল’-এ হবে একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট।
এক সময় এটিই ছিল কক্সবাজার শহরের একমাত্র সবচেয়ে বড় ও তারকা মানের হোটেল। এরপর বিশ বছরে সাগরে কোটি কোটি ঢেউ গড়ালেও এই প্রতিষ্ঠানের একটি চেয়ারও সংস্কার করেনি পর্যটন করপোরেশন। ফলে এর সামন দিয়ে গড়ে ওঠা অন্য সরকারি বেসরকারি হোটেল মোটেলগুলো নিত্য নতুন কায়দায় প্রতিদিন ব্যবসা করে গেলেও হোটেল শৈবালের ব্যবসা নেমে গেছে তলানির দিকে। এ কারণে এতদিনে এই হোটেলের ব্যাপারে মনোযোগ দিয়েছে সরকার। তাই এটির হাসপাতালমার্কা কাঠামো ভেঙে সুদৃশ আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে পর্যটন করপোরেশন।
পর্যটন কর্পোরেশন সূত্র জানায়, আগামী জুলাইয়ে তাদের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ‘ফাইন্যান্সিয়াল অফার ওপেন’ করা হবে। এরপর থেকে ৮শ’ কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে। তবে হোটেল শৈবালের এমন উন্নয়নের পাশাপাশি দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা গেছে হোটেলটির কর্মচারীদের মধ্যে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিতে এমনও অনেক কর্মচারী রয়েছে যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসলেও এখনও স্থায়ী নন। চুক্তিভিত্তিক এসব কর্মচারীরা এখনও জানেন না এই হোটেলটি ভেঙে ফেলা হলে তাদের ভবিষ্যত কী হবে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছেন বদলি আতঙ্কে। বর্তমানে পর্যটন হোটেল শৈবালে সরকারি ও চুক্তিভিত্তিক ৪২জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।
এ বিষয়ে হোটেল শৈবালের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক গোলাম ফারুক জানান, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলেই হোটেলটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হবে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি ঠিক কবে থেকে কাজ শুরু হচ্ছে। তবে কর্মচারীদের ব্যাপারে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত পেলে বোঝা যাবে কী হবে।
আরও পড়তে পারেন
মাগুরছড়া গ্যাসকূপে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ১৯ বছরপূর্তি আজ
বন্ধের খবরে শঙ্কিত গাজীপুর সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা