কক্সবাজার উপকূলে ভাঙছে বেড়িবাঁধ, সংস্কারে দরকার ৭৬ কোটি টাকা

ষাটের দশকে নির্মিত কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধ ক্রমে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জোয়ারের পানিবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ক্রমশই ভেঙে পড়ছে জেলার এক সময়ের রক্ষক এসব বেড়িবাঁধ। শুধুমাত্র মাটি দিয়ে তৈরি ও শুষ্ক মৌসুমে নকশা অনুযায়ী কাজ না করাকেই বাঁধ ভাঙার কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আবার উপকূলের ম্যানগ্রোভ বন উজাড় হওয়াকেও বাঁধ ভাঙনের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।Cox-Baribad-Pic-01

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে বিলীন হয়ে গেছে জেলার ৭ উপজেলার প্রায় ৬৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। সেইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বিভিন্ন উপজেলার অন্যান্য বাঁধগুলোও। পাশাপাশি উপকূল রক্ষায় বেড়িবাঁধের বিলীন হওয়া অংশ দিয়ে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি ঢোকায় দিন দিন ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে জেলার মোট ৫৯৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাড়ে ৬৮ কিলোমিটার অংশ। এই অংশের মেরামতের জন্য ৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো সূত্র জানান, কক্সবাজারের বেড়িবাঁধগুলো মাটির তৈরি এবং টেকনাফসহ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অংশে মাত্র ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার সিসি ব্লক বা প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ রয়েছে। এছাড়া অনেক সময় শুষ্ক মৌসুমে বেড়িবাঁধের নকশা অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় প্রতি বছর বন্যা বা অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে বিলীন হচ্ছে কোনও না কোনও স্থানের বাঁধ।Cox-Baribad-Pic-04

পাউবো সূত্র আরও জানান, জেলার বেড়িবাঁধগুলোর ২২টি পোল্ডারে এবারের ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পেকুয়ার ৬৪/২বি নং পোল্ডারের ১৫ কিলোমিটার, ৬৪/২এ নং পোল্ডারের ৩ কিলোমিটার, কুতুবদিয়ার ৭১নং পোল্ডারের ১০ কিলোমিটার, মহেশখালীর ৭০নং পোল্ডারের ১২ কিলোমিটার, ৬৯ নম্বর পোল্ডারের ২ কিলোমিটার, ৬৯ (পি-১)নম্বরে হাফ কিলোমিটার, ৬৯ (ন-ই)নম্বরে দেড় কিলোমিটার, চকরিয়ার ৬৫ নম্বর পোল্ডারের ২ কিলোমিটার, ৬৫/এ নম্বর পোল্ডারের ৩ কিলোমিটার, ৬৫/এ-১ নম্বর পোল্ডারের ৩ কিলোমিটার, ৬৫/এ-৩ নম্বর পোল্ডারের ২ কিলোমিটার, ৬৬/৪ নম্বর পোল্ডারের ৩ কিলোমিটার, সদরের ৬৬/১ নম্বর পোল্ডারের ২ কিলোমিটার, ৬৬/২ নম্বর পোল্ডারের ২ কিলোমিটার, ৬৬/৩ নম্বর পোল্ডারের ৪ কিলোমিটার, টেকনাফের ৬৭ নম্বর পোল্ডারের ১ কিলোমিটার, ৬৭/এ নম্বর পোল্ডারের ২ কিলোমিটার, ৬৭/বি নম্বর পোল্ডারের ১ কিলোমিটার, ৬৮ নম্বর পোল্ডারের ২ কিলোমিটার এবং উখিয়ার ৬৭/এ পোল্ডারের ২ কিলোমিটার অংশগুলো এবারের ঘূর্ণিঝড়ে বিলীন হয়েছে। Cox-Baribad-Pic-05

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান জানান, জেলায় এবারের ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ৬৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এসব বাঁধ পরিদর্শন করে আমরা একটি প্রতিবেদন ও সংস্কারের প্রয়োজনীয় টাকার হিসাব ইতোমধ্যে ঢাকা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করবো।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হচ্ছে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা। আর শুষ্ক মৌসুমে নকশা অনুযায়ী কাজ করলে আগামীতে বেড়িবাঁধের ভাঙন অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করেন নির্বাহী এই প্রকৌশলী।

আরও পড়ুন: লাউয়াছড়া উদ্যানে দুর্ঘটনা এড়াতে ২৫ হাজার গাছ কাটার চিঠি!

/এমও/এইচকে/আপ-এআর/