বুধবার (২২ জুন) কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয়ে তনু হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল করিম খান এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক গুমের মামলায় কোনও প্রমাণ পাই না, লাশ পাই না। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর কাপড়ে তিনজনের শুক্রানু পাওয়া গেছে। আসামি মারা গেলেও কবর থেকে লাশ তুলেও ডিএনএ শনাক্ত করা সম্ভব। তনু হত্যার ঘটনার স্থান একটি স্পর্শকাতর এলাকায়। সেখানে ইচ্ছে মতো সোর্স ব্যবহার করা যায় না।'
তনুর কাপড়ে পাওয়া তিন পুরুষের ডিএনএ সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মেলানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঢাকা অফিসে আলোচনা চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে পর্যায়ক্রমে সিভিল থেকে সামরিক সব সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তে চিকিৎসকদের থেকে যে সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিল তা আমরা পাইনি। সহযোগিতা পেলে আমাদের কাজ অনেক সহজ হতো।
এদিকে কুমিল্লার স্থানীয় সংগীত শিল্পী সারোয়ার, খোকন ও বাপ্পিকে বুধবার সকালে সিআইডি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২০ তারিখ সেনানিবাসের একটি সংগীত অনুষ্ঠানে গান গাইতে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। যদিও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি হয়নি।
এছাড়া বুধবার দুপুর ৩টার দিকে সেনানিবাসে যান সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড.নাজমুল করিম খানের নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল।
এদিকে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, সিআইডির কর্মকর্তারা বুধবার আমাদের বাসায় এসেছিলেন। তারা বলেছেন, তাদের (সিআইডি) হাতে যেসব প্রমাণ রয়েছে তাতে আসামির পার পেয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
তনুর বাবাকে গাড়ি চাপার দেওয়ার চেষ্টার বিষয়ে থানায় জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন সিআইডি। তনুর বাবা বলেন, আমরা তো কোনও বাহিনীর বিরুদ্ধে বলছি না। আমরা আমাদের মেয়ে হত্যাকারীদের বিচার চাইছি।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসে বাসার পাশের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ডা. শারমিন সুলতানা। গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ জেলার মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের কবর থেকে উঠানো হয় এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
গত ৪ এপ্রিল দেওয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফরেনসিক বিভাগ। গত ১৬ মে তনুর কাপড়ে তিনজন পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডি থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় উঠে আসে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ডিএনএ প্রতিবেদনের এমন গরমিল তথ্যে ঝুলে যায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ডিএনএ প্রতিবেদন আদালতের নির্দেশে ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তরের পর ১২ জুন দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেটি নিয়েও বিতর্ক হয়।
/এফএস /এএইচ/
আরও খবর পড়ুন-