‘আগরতলা-আখাউড়া রেলপথ প্রকল্প দুই দেশের বাণিজ্যে উন্নয়ন ঘটাবে’

আগরতলা-আখাউড়া তথা বাংলাদেশ-ভারত রেলপথ প্রকল্প স্থাপনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থ-বাণিজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। রবিবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা যাওয়ার পথে দুই দেশের শুন্যরেখায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। 

রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকসাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বেশিরভাগ ভারতীয় অনুদান এবং বাংলাদেশের জিওবি ফান্ড থেকে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণ হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অংশে জমি অধিগ্রহণ এবং মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। এই রেলপথ নির্মাণ হলে দুদেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে রেলপথ যশোর যাবে। তাছাড়া দোহাজারী কক্সবাজারেও নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং যমুনা নদীর ওপর প্যারালাল সেতু নির্মাণ করা হবে।

পরে দু’দেশের সীমান্ত রেখায় (নোম্যান্সল্যান্ডে) মন্ত্রীকে স্বাগত জানান ত্রিপুরার পর্যটনমন্ত্রী শ্রী রতন ভৌমিক, আগরতলা পৌরসভার মেয়র ড. প্রফুল্ল জিৎ সিংহা, পশ্চিম জেলার ডিএম ডা. মিলিন রামটেকে এবং পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ সপ্তসী।

এর আগে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দুপুরে আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে আগরতলা-আখাউড়া রেলপথ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। সেখানে সে দেশের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

জানা গেছে, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ হবে ১৫ কিলোমিটারের। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ১০ কিলোমিটার এবং আগরতলা অংশে ৫ কিলোমিটার। রেলপথটি আগরতলা অংশ থেকে নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের গঙ্গাসাগর হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া জংশনে আসবে। তবে আগরতলা অংশে কাজের উদ্বোধন হলেও বাংলাদেশ অংশে কাজের কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রকল্পের কাজ শুরু করতে ইতোমধ্যে ৯৭ কোটি রুপি পেয়েছে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। এর পুরোটাই ব্যয় হবে ভারতের অংশে ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণে। ওই ৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮০ কোটি রুপি। অপরদিকে, বাংলাদেশ অংশে ১০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য ভারতের ডোটার মন্ত্রণালয় ১৫০ কোটি রুপি দিচ্ছে সেখানকার রেলওয়ে মন্ত্রণালয়কে।

/বিটি/আপ-এমও