রাঙামাটির বাঘাইছড়ির উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ছাত্রলীগের স্থানীয় একজন নেতা এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
রবিবার উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ের প্রশ্নপত্রের নৈর্ব্যত্তিক বিভাগের ৪১নম্বর প্রশ্নটি ছিল বিতর্কিত। সেখানে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে কোন নামটি যথার্থ- এ প্রশ্ন করে সঠিক উত্তরের জন্য দেওয়া হয় (ক) জিয়াউর রহমান (খ) জেনারেল ভুট্টো (গ) ইশতিয়াক আহম্মেদ (ঘ) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ; এ চারটি পছন্দ।
এ বিষয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিষয়টি অবশ্যই মারাত্মক। আমি দেখছি। যে বা যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানান জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু। তিনি জানান, একটি নাম ছাড়া আর সবটিইতো পাকিস্তানের নেতাদের নাম। এটি নিঃসন্দেহে ইতিহাস বিকৃতির নমুনা। আর যিনি এটার সঙ্গে জড়িত সে পাকিস্তানপন্থি তাও স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। যে বা যারা এটার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। আর দ্রুত এদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিও জানান কমান্ডার। যিনি এই প্রশ্নটি প্রনয়ন করেছেন তিনি কোনো দিন বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষন শুনেছেন কিনা সেই বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত প্রশ্নপত্রের ছবি পোস্ট করেন। তিনি দাবি করেন, সুপরিকল্পিতভাবে এই প্রশ্ন তৈরি করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিকৃত ইতিহাস শেখানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এই ধরনের ভুল কোনও ক্রমেই ভুলক্রমে হতে পারে না বলে দাবি করেন।
এই ব্যাপারে জানতে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল করিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন এবং খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানোর পরও তার কোনও সাড়া মেলেনি।
/এইচকে/
আরও পড়ুন: রোগব্যাধি আর নদীর ভাঙনে দিশেহারা বন্যাদুর্গতরা