ব্রাহ্মণবাড়িয়া কান্দিপাড়া শ্রীশ্রী রঘুনাথ জীউর মন্দিরের প্রধান পুরুহিত শ্রী বকুল চক্রবর্তী বলেন, সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের মতে শরৎকালে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয় বলে একে বলে শারদীয় দুর্গোউৎসব। আকাশে যখন শরতের সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায় আর দিগন্ত জুড়ে কাশফুল ফুটে ঠিক তখনই জানান দেয় শারদীয় দুর্গোউৎসবের। দশভূযা দেবি দুর্গামায়ের আগমনী বার্তায় ধরনী আজ পুলকিত। বাঙালির সার্বজনীন এ বৃহৎ উৎসবকে কেন্দ্র করে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসব আমেজ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্যতম প্রতিমা শিল্পী ঝন্টু পাল, চিন্ময় পাল এবং মন্টুপাল বলেন, পূজোর আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। এ অবস্থায় যথা সময়ে মূর্তির রঙ দেওয়া থেকে শুরু করে আনুসাঙ্গিক সব কাজ শেষ করতে হবে। এ নিয়ে পূজারিদের পক্ষ থেকে তাগিদ আছে। তাই রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে।
এদিকে, শহরের কালাইশ্রী পাড়ার পূজারি রাখেশ রায় এবং পাইকপাড়া এলাকার সজীব দেবনাথ বলেন, ‘মাতৃরুপে প্রকাশ দেবী দুর্গা মায়ের রাতুল চরনে পুষ্পাঞ্জলী দেওয়ার জন্য আমরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি। মায়ের আগমনী বার্তায় আমরা খুব খুশি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সোমেশ রঞ্জন রায় জানান, গত বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৫১১টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছর গ্রাম-গঞ্জ থেকে পূজা মণ্ডপের চুড়ান্ত তালিকা এখনও না পৌঁছালেও পূজামণ্ডপের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়বে। এ সংখ্যা ৫১৫ থেকে ৫২০ হতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের চলমান অবস্থা সবারই জানা আছে। প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দুর্গাপূজা চলাকালীন সময়ে মণ্ডপ এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রতিটি পূজা মণ্ডপে পুলিশের পাশপাশি সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পূজা চলাকালীন সময়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন:
ময়নাতদন্তেও মিলেছে টুম্পা ‘হত্যার প্রমাণ’
/বিটি/