গত প্রায় দেড় মাস ধরেই ঝাঁকে-ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। আড়ৎদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক যুগে এতো বেশি ইলিশ ধরা পড়েনি। তাই জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পেয়ে খুশি জেলেরা।
চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইলিশ যেহেতু কমবেশি সারা বছরই ডিম ছাড়ে, তাই সারা বছরই এই মাছ পাওয়ার কথা। তবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর প্রধান প্রজননের সময়। এ সময় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ইলিশ পাওয়া যায় প্রজনন এবং বিচরণ অঞ্চলে।’
তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে। বাকি সময় অপেক্ষাকৃত কম মাছ পাওয়া যাবে। কিন্তু পুরো দুই মাসই ইলিশ সর্বাধিক পাওয়া যাবে। প্রজননের সময় মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপর মা ইলিশ ডিম ছেড়ে সাগরের দিকে চলে যাবে। এ সময় কয়েকদিন ইলিশ ধরা পড়তে পারে।’
ড. আনিছুর রহমান আরও বলেন, ‘নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পর থেকেই ইলিশ কম পাওয়া যাবে। আবার জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে গিয়ে কিছু পাওয়া যেতে পারে। এ সময়টা তাদের দ্বিতীয় প্রজনন সময়। কিন্তু এটা খুববেশি গুরুত্বপূর্ণ না বলে বিবেচনায় আনা হয় না।’
চাঁদপুর আখনেরহাটের আড়ৎদার আলমগীর হোসেন জানান, ‘গত দু’দিন মাছ কিছুটা কম পাওয়া গেলেও বুধবার(২৮ সেপ্টেম্বর) একটু বেশি পাওয়া গেছে। এ দিন ৬০০-৮০০ গ্রাম ইলিশের হালি পাইকাররা কিনেছেন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়। আর ৫০০ গ্রামের ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের ইলিশের হালি ছিল আট’শ থেকে এক হাজার টাকা।
চাঁদপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত দুই দিন মাছের আমদানি আগের চেয়ে একটু কম। তবে এই কম একেবারেই কম না। বুধবারও চাঁদপুর মাছঘাটে প্রায় ২ হাজার মন ইলিশ আমদানি হয়েছে।’
তিনি জানান, চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে এক কেজি ওজনের প্রতি মন ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মন ছিল ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন-
মেডিক্যালে প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা
/এআরএল/এফএস/