ফেনীর ফুলগাজীতে এক পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর ওপর হামলা,বাড়িঘর ভাঙচুর ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে পরাজিত প্রার্থীসহ ওই বাড়ির নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন।
নির্বাচনি ফলাফলের পর সোমবার রাতে ও মঙ্গলাবার দুপুরে ফুলগাজীর গোসাইপুর গ্রামে ৪ নং ওয়ার্ডের পরাজিত মেম্বার প্রার্থী আব্দুল হকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এই হামলায় স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম সরাসরি নেতৃত্ব দেন বলে মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরাজিত মেম্বার প্রার্থী আব্দুল হক। তিনি জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে গ্রামবাসীর সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম তার উপর ক্ষুব্ধ হন। এই নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান আলীম তার নিকট আত্মীয় জামায়াত শিবির নেতাকে মেম্বার পদে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচিত করেন।
ফুলগাজী থানার ওসি এম মোর্শেদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য দিতে পারবো না।’
অন্যদিকে,ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম তার নেতৃত্বে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পরাজিত মেম্বার প্রার্থী একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাকে জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখান করায় সে গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। এতে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তার বাড়িতে হামলা করে।
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা শোনার পর আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং সবাইকে নিবৃত করি।’
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় আব্দুল হকের ওপর আরেক দফা হামলা করে দুর্বৃত্তরা। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল সরকার বলেন, ‘পুলিশ সুপারের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পুলিশ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।’
আরও পড়ুন:
ঝিকরগাছার আ. লীগ নেতা ঢাকা থেকে অপহৃত
/বিটি/