বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও প্রবাসী স্বজনদের কাছ থেকে আব্দুল হাই ও জসিম উদ্দিনের মৃত্যুর খবর পান তাদের স্বজনরা। খবর পেয়ে পরিচিতরাও সমবেদনা জানাতে আসছেন বাড়িতে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে আব্দুল হাইদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় চলছে শোকের মাতম।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এ ব্যাক্তিকে হারিয়ে হতবিহ্বল আবদুল হাইয়ের মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ‘সর্বশেষ বিকেল ৫টার দিকে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। এর এক ঘন্টা পর মৃত্যুর সংবাদ পাই।’
তিনি অভিযোগ করেন সৌদি আরবে জসিম, আব্দুল হাই ও চট্রগ্রামের এক লোক একসঙ্গে থাকতো। দুপুরে ভাত খাওয়ার পর চট্রগামের ওই লোক নামাজ আদায় করছিলেন। এসময় জসিম বাহির থেকে এসে হঠাৎ ওই ব্যাক্তির মাথায় আঘাত করে। এসময় বাধা দিতে গেলে আব্দুল হাইকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে জসিম। এর আগে চট্রগ্রামের ওই লোক রক্তাক্ত অবস্থায় রুম ত্যাগ করে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
আব্দুল হাইয়ের ১৪ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান রাহুল জানান, ‘বাবার লাশ চাই, হত্যার বিচার চাই। আমরা ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ঋণগস্ত। এ টাকা কে দেবে এখন?’
এদিকে জসিমের ঘরে গিয়ে দেখা গেছে স্বজনদের ভিড়। আর তার স্ত্রী বিছানায় অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। অসুস্থতার অজুহাতে প্রতিবেশীরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দেননি তাকে। তবে জসিমের চাচাতো ভাই আব্দুল মন্নান জানান, অল্প কিছুদিন ধরে জসিম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিল। তাই আব্দুল হাইকে হত্যা করে সে নিজেও আত্মহত্যা করেছে।
জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর ধরে আব্দুল হাই সৌদি আরবে থাকেন। সর্বশেষ এক মাস আগে তিনি দেশ ঘুরে যান। তবে তার পারিবারিক অবস্থা খুব একটা পরিবর্তিত হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিবার চাইলে লাশ ফেরৎ আনাসহ অসহায় পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে।
আরও পড়ুন-
প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের আওতায় এসেছেন: দুদক চেয়ারম্যান
/এফএস/