চাঁদপুর মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ১৪২টি অভিযান চালায় টাস্কফোর্স। এসব অভিযানে আটক করা হয় ৬১ জন জেলেকে। এর মধ্যে ৩৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২৫ জনের কাছ থেকে ৮৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মামলা করা হয়েছে ৬১টি। এছাড়া ৭ হাজার ৩৭৯ লাখ মিটার কারেন্ট জাল, ০.২৮৫ মেট্রিক টন (২৮৫ কেজি) ইলিশ, ১১টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা সংরক্ষণ কমিটি তথা জেলা টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব মো. সফিকুর রহমান জানান, গত বছর থেকে এ বছর এই অভিযান কঠোর হওয়ায় এবং গণসচেতনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মা ইলিশ নিধন গত বছরগুলোর তুলনায় এবার অনেক নিচে নেমে এসেছে। ফলে ইলিশ উৎপাদন আগামীতে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে ৩২৬টি মাছঘাট, ৮৪০টি আড়ত,, ৪৩৯টি বাজার পরিদর্শন করে টাস্কফোর্স। এবার অভিযান চলাকালীন সময়ে জেলা প্রশাসক তথা টাস্কফোর্সের সভাপতি আব্দুস সবুর মণ্ডল শুরু থেকেই মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার ফলেই এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি শুধু অসাধু জেলেদের ব্যাপারেই নয় মাছ ব্যবসায়ী, আড়তদার, ক্রেতা, নৌকা ও বরফকল মালিক এবং মা ইলিশ পরিবহনসহ বিভিন্ন ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। ইলিশ সংশ্লিষ্ট লোকজনও এ ব্যাপারে ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর এমনকি এলাকার সাংসদরাও এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন। তাছাড়া ইলিশ প্রেমীদের মধ্যেও মা ইলিশ রক্ষায় একটি সচেতনা দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, মা ইলিশ রক্ষায় গত ২২ দিন মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ শিকার, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিকিকিনি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে সরকার।
আরও পড়ুন:
লাঠিসোটা নিয়েই প্রতিবাদ সমাবেশে ছিল আ. লীগ নেতাকর্মীরা
/বিটি/