সেন্টমার্টিন ভ্রমনে আসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বিজিবি সদস্যদের কথা কাটাকাটির জের ধরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। পরে সমঝোতা বৈঠক শেষে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেয় তারা। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া বিজিবি চেকপোস্টে তল্লাশি করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিউল ইসলাম জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থী সেন্টমার্টিন ভ্রমনে যায়। সেন্টমার্টিন থেকে ওইদিন বিকালে কক্সবাজারের উদ্দেশে দমদমিয়া জেটিঘাট হয়ে উপকূলে ওঠার পর বিজিবি তল্লাশি চালায়। এ সময় বিজিবি সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের তর্কাতর্কি হয়। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে বিজিবি সদস্য আবু হায়দারের নেতৃত্বে একদল বিজিবি সদস্য নিজেদের পোশাকে লাগানো নেইমপ্লেট খুলে ফেলে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমরান হোসেন, সজিব ও বায়োজিদ রানাসহ ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয় বলে দাবি করেন ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনার জের ধরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
খবর পেয়ে টেকনাফ ২ বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্নেল আবুজার আল জাহিদ ও উপ-অধিনায়ক আবু রাসেল সিদ্দিকি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক বদরুন্নাহার ও অধ্যাপক মশিউর রহমানসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকে বসার তিন ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
টেকনাফ ২ বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু রাসেল সিদ্দিকী বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিজিবি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এতে আমরা উভয়পক্ষ বসে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তদন্ত করে বিজিবি’র কোনও সদস্য যদি অন্যায় করে থাকে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/বিটি/