সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরসহ সরকারের আরও এক মন্ত্রী যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মেলাকে ঘিরে জেলার ১১টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এ সময় পাহাড়ি-বাঙালিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। দেশি- বিদেশি পর্যটকরা ভীড় জমায় এ পর্যটন শহরে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতা হিসাবে রাজার আর্শিবাদ পাওয়ার জন্য দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে পাহাড়িরা রাজ দরবারে এসে ভীড় জমান।
বান্দরবানের বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরীর সহকারী অং ঝাই বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ মেলা। এ ব্যাপারে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে অবহিত করা হবে।’
রাজ পরিবার সূত্র জানায়, বৃটিশ শাসনামলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলাকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে খাজনা আদায় করা হতো। ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত চাকমা রাজা পার্বত্য এলাকা শাসন করতো। ১৮৬৭ সালে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ অঞ্চলের মারমা অধ্যুষিত এলাকাকে বোমাং সার্কেল, ১৮৭০ সালে রামগড় ও মাইনি উপত্যকার এলাকাকে নিয়ে মং সার্কেল গঠিত হয়।
আরও জানা যায়, বর্তমানে রাঙামাটিকে চাকমা সার্কেল, বান্দরবানকে বোমাং সার্কেল এবং খাগড়াছড়িকে মং সার্কেল হিসাবে গণ্য করা হয়। প্রায় ১৭৬৪ বর্গমাইল এলাকার বান্দরবানের ৯৫টি, রাঙামাটির রাজস্থলি ও কাপ্তাই উপজেলার ১৪টি মৌজা নিয়ে বান্দরবান বোমাং সার্কেল। দুইশ বছরের ঐতিহ্য অনুসারে বছরে একবার এই মেলার আয়োজন করা হয় বোমাং সার্কেলের পক্ষ থেকে।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,প্রতিবছরের মতো এবারও মেলাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রস্তুত আছি।
প্রসঙ্গত,বান্দরবানের রাজপুণ্যাহ মেলা উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত বছর তিন লাখ টাকা অনুদান দেয় বোমাং রাজাকে। এবারও অনুদান দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
/বিটি/