‘নাসিরনগরের ঘটনা ব্যক্তিস্বার্থে ঘটানো হয়েছে’

নাসিরনগরে আ স ম আব্দুর রবজাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামলার ঘটনা ব্যক্তিস্বার্থে ঘটানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সত্যিকার আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তাদের গ্রেফতার করা না হলে পরবর্তিতে আবার কোনও ঘটনা ঘটলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।’

মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে নাসিরনগর উপজেলার প্রধান মন্দির গৌর মন্দির পরিদর্শন করার সময় তিনি এসব কথা বলেন। মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি গৌর মন্দির এলাকায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে এ ঘটনার নেপথ্যের নায়কদের গ্রেফতার করা না হলে আমরা তাদের বাংলার মাটিতে ঘেড়াও করে গণআদালতে তাদের বিচার করবো।’

তিনি পুলিশের গ্রেফতার সর্ম্পকে বলেন, ‘সত্যিকার আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। যদি সত্যিকারে আসামিদের গ্রেফতার করা না হয়, পরবর্তী সময়ে কোনও ঘটনা ঘটলে এর দায়দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারকেই নিতে হবে। এই ঘটনার বিচার না হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। যে লক্ষ্য নিয়ে লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা জীবন দিয়েছিল তাদের রক্ত বৃথা যাবে। আমরা শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না। প্রয়োজনে আরও একটি মুক্তিযুদ্ধ হবে।’

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, দলের সহসভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. মিন্টু ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রেজাসহ দলের নেতারা।

উল্লেখ্য ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় হামলাকারীরা উপজেলা সদরের ঘোষপাড়া, নমশুদ্র পাড়া, কাশিপাড়া, দাসপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০টি মন্দিরসহ শতাধিক বাড়িঘরে লুটপাট চালায় ও ভাঙচুর করে। এ ঘটনার পরের দিন ৩১ অক্টোবর সোমবার স্থানীয় গৌর মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী এবং দত্তবাড়ির কাজল জ্যোতি দত্ত বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় অজ্ঞাত নামা ১ হাজার থেকে ১২শ’ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনার চার দিনের মাথায় ৩ নভেম্বর দিনগত রাতে আবারও একই এলাকার ৬টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চারটি মামলায় কথিত ভিডিও ফুটেজের রেফারেন্স উল্লেখ করে মোট ৭৮ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিভিন্ন মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (১৩ নভেম্বর) আরও একটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন- 



সুন্দরবনে ‘জলে দস্যু, ডাঙায়ও দস্যু’, অসহায় বনজীবীরা

/এফএস/