পুলিশি বাধার পরও নাসিরনগরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ দিলেন জাবি শিক্ষার্থীরা

জাবি শিক্ষার্থীরাপুলিশি বাধার পরও নাসিরনগরে এসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মন্দির এবং সংখ্যালঘু পল্লী পরিদর্শন শেষে ত্রাণ দিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি)শিক্ষার্থীরা।শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবারের হাতে এক লাখ টাকার সমমূল্যের ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন।

শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দলের প্রধান রবিন কর্মকার জানান, পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ সদস্যের শিক্ষার্থীদের একটি দল ত্রাণ সমাগ্রী নিয়ে নাসিরনগরে আসছিল। পথে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহন করা বাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ আটকে দেয়। এরপর পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় উজান ভাটি হোটেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করিম এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষার্থীরা। বৈঠক শেষে ৪৯ সদস্যের দল থেকে মোট ১৪ জনকে নাসিরনগর যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ। পরে পুলিশি প্রহরায় একটি মাইক্রোবাসে করে শিক্ষার্থীরা বিকেল ৩টার দিকে নাসিরনগর গৌর মন্দিরে পৌছে।

রবিন কর্মকার আরও বলেন,জাবির বিভিন্ন হল থেকে নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আমরা ফান্ড সংগ্রহ করেছি। তাই আমরা নিজ হাতে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ১ লাখ টাকার ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিয়েছি।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে আমরা সবাইকে নাসিরনগরে আসতে দেইনি। প্রতিনিধি দলের ১৪ জনকে আমরা নাসিরনগরে আসার জন্যে বলেছি। সবাই আসলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা ছিল।

উল্লেখ্য, ফেইস বুকে কাবা শরীফ অবমাননার ঘটনার প্রতিবাদের নামে গত ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলা সদরের বেশ কয়েকটি হিন্দু পাড়ায় হামলা করা হয়। এতে হিন্দুদের ১০ মন্দির এবং শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়।

/এমডিপি/