টেকনাফের নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশের প্রবেশের চেষ্টাকালে ২৪০টি নৌকায় এক হাজার ৬৮০ জন এবং উখিয়া সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৪৩৬ জন রোহিঙ্গাকে এই মাসে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
বিজিবি’র হিসাবে, চলতি ডিসেম্বরের ১ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত টেকনাফের নাফ নদীর শূন্যরেখা অতিক্রম করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় রোহিঙ্গা বোঝাই ২৪০টি নৌকা ফেরত পাঠানো হয় মিয়ানমারে। এসব নৌকার প্রত্যেকটিতে ১২ থেকে ১৫ জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু ছিল। সে হিসাবে ১ হাজার ৬৮০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়।
আজ শনিবারও (৩১ ডিসেম্বর) রোহিঙ্গদের ফেরত পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময়ে কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর একটি পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় ৮টি নৌকা ও উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ১৭ জন নারী, পুরুষ ও শিশুদের ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানিয়েছেন, ‘শনিবার সকালে উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ১৭জন নারী পুরুষ ও শিশুকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি’র সদস্যরা। চলতি ডিসেম্বর মাসে উখিয়ার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ৪৩৬ জন রোহিঙ্গাকে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি’র সদস্যরা। এরা প্রত্যেকেই সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছিল।’
এদিকে টেকনাফে বিজিবির ২ নং ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, ‘শনিবার ভোরে টেকনাফের নাফ নদীর ৩টি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাবাহী ৮টি নৌকা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় জলসীমার শূন্য রেখায় এদের ফেরত পাঠানো হয়। প্রতিটি নৌকায় ১০ থেকে ১২ জন রোহিঙ্গা ছিল।’
তিনি বলেন, ‘চলতি ডিসেম্বরে টেকনাফ নাফ নদীর জলসীমানা অতিক্রম করে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে রোহিঙ্গাবাহী ২৪০টি নৌকা ফেরত পাঠানো হয়। এসব নৌকায় অন্তত এক হাজার ৬৮০জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু ছিল।
সম্প্রতি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত শরণার্থী শিবিরে এসে উঠলেও পরে অনেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বেশ কয়েককটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সীমান্ত পুলিশের ৯ সদস্য নিহত হয়। সেই হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের দায়ী করে আসছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এর জের হিসেবে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন শুরু করে তারা। এরপর থেকে মিয়ানমারের নাগরিকরা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন-
ডিসিসির অনুমতি ছাড়াই সড়কে ইস্পাতের ডিভাইডার
/এফএস/