৮০ দশকের শুরু থেকে কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক মহালসহ জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই থেকে এই এলাকার শুঁটকি দেশে ব্যাপক পরিচিতি পায়। এরপর সৌদি আরব, দুবাই, হংকং ও কুয়েতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই এলাকার শুঁটকি রফতানি প্রক্রিয়া শুরু করে ব্যবসায়ীরা।
প্রায় ২৫ প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুঁটকি। এর মধ্যে রূপচাঁন্দা, ছুরি, কোরাল, সুরমা, লইট্ট্যা ও পোপা অন্যতম। বর্ষার কয়েকমাস ছাড়া বছরের বাকি সময়ে এখানে শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি শুঁটকি তৈরি হয় শীতে। আর এ শুঁটকি মহালে কাজ করে জীবিকা পরিচালনা করেন শ্রমিকরা। যদিও ওখানে শ্রম ও বেতন নিয়ে রয়েছে তাদের নানা অভিযোগ।
কক্সবাজার শহরের বিশিষ্ট শুঁটকি ব্যবসায়ী ও পৌর কাউন্সিলর এসআই আক্তার কামাল, নাজিরারটেক মৎস্য ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আতিক উল্লাহ, শুঁটকি মহালের শ্রমিক নুরুল কাদের, মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, মোহাম্মদ কায়সার, সরওয়ার আলম ও শফিউল আলম শফিকসহ আরও অনেকে জানান, কক্সবাজারের নাজিরার টেকে রয়েছে প্রায় এক হাজার শুঁটকি মহাল। যেখানে প্রতি সপ্তাহে ২ শত টন শুঁটকি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। যার চাহিদা রয়েছে বিদেশেও।
কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০টি ট্রাক শুঁটকি ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যা স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি লইট্যা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফাইস্যা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ছুরি ৭০০ থেকে ৯৫০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, ছোট পোয়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, রইস্যা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, রূপচাঁদা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, লাক্ষা ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, মাইট্যা ৬০০ থেকে ৮০০, বড় চিংড়ি (চাগাইচা) ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও কক্সবাজারের শুঁটকি মহালের মাছের গুড়ি সারাদেশে পোল্ট্রি ফার্ম ও ফিস ফিডের জন্য সরবরাহ হয়ে থাকে।
কক্সবাজার জেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন জানান, শহরের কুতুবদিয়াপাড়ার ১৬টি মহল্লার ৪০ হাজার জেলে ও শ্রমিক এ পেশার সঙ্গে জড়িত। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকার ৫ হাজার পরিবার শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রতি বছর ৯ মাস পর্যন্ত এ মহালে শুঁটকি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ হয়ে থাকে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
/এমডিপি/