এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে, বনভূমি দখলে সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি সিন্ডিকেট।
স্থানীয় বনবিভাগ সূত্র জানায়, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৪-১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে গড়ে ওঠা আড়াই শতাধিক একর সংরক্ষিত বনভূমির সামাজিক বনায়ন রয়েছে উখিয়ার বালুখালী এলাকায়। কিন্তু এই সামাজিক বনায়নের গাছ সাবাড় করে সেখানে নতুন করে রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে উঠেছে। এতে প্রায় ১শ’ একর সামাজিক বনায়ন চলে গেছে রোহিঙ্গাদের দখলে। খবর পেয়ে স্থানীয় বনবিভাগ এতে উচ্ছেদ অভিযান করতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের বাধার সম্মুখীন হয়েছে।
বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দমন-নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা কুতুপালং ক্যাম্পের পর বালুখালী এলাকায় নতুন করে ক্যাম্প গড়ে তোলে। এই খবর পেয়ে এক মাস আগে একদল বনকর্মী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালায়। অভিযান শেষে ফেরত আসার সময় কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান নেওয়া ২/৩ শত অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ইন্ধনে বনকর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে বনকর্মীরা ১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে বনকর্মকর্তাসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।’
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, রোহিঙ্গাদের বসতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা ও ইন্ধনের জন্য উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আবছারের হাত রয়েছে। মূলত তার ইন্ধনেই রোহিঙ্গারা বনবিভাগের জমি একের পর এক দখলে নিচ্ছে।
তবে এ ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করে অভিযুক্ত উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের মেম্বার মোহাম্মদ আবছার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে এলাকায় রোহিঙ্গাদের অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হয়েছে ওই এলাকা আমার ইউনিয়নের বাইরে। কাজেই সেখানে আমার সম্পৃক্ত থাকার প্রশ্নই ওঠে না।’
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা অসহায়। প্রতিদিন একরের পর একর বনভূমি রোহিঙ্গারা দখলে নিলেও আমরা কিছুই করতে পারছি না। কারণ, কোনও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে আইনিভাবে একজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ ফোর্স দরকার। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনও সহযোগিতা পাচ্ছি না।’
উল্লেখ্য ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর তার দায় চাপানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর। আর তখন থেকেই সেখানে শুরু হয় সেনাবাহিনীর দমন প্রক্রিয়া। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি, এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্যে 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন' চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এ ঘটনায় জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার অভিযোগ এনেছে। তাদের বিরেুদ্ধে দুই দফায় মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ তোলা হয়। সংঘর্ষে রাখাইন রাজ্যের মৃতের সংখ্যা ৮৬ জন বলে জানিয়েছেন তারা।
জাতিসংঘের হিসাব মতে, মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে ৭০ হাজার রোহিঙ্গা। এর মধ্যে টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া, শামলাপুর ও উখিয়ার কুতুপালং ছাড়াও নতুন করে বালুখালীতে বনভূমি দখল করে আশ্রয় নিয়েছে ১০ হাজার রোহিঙ্গা।
/এআর/এফএস/
আরও পড়ুন-