গুইমারা উপজেলা নির্বাচনে ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধ

Chairmanআগামী ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে খাগড়াছড়ির নবম উপজেলা গুইমারার প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিন প্রার্থীর প্রত্যেকেই নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। তাতে গুইমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাওয়া যাচ্ছে ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধের আভাস।


জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গুইমারা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী তিন জন। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেমং মারমা, বিএনপির উপজেলা সভাপতি মো. ইউচুপ এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত হিসেবে পরিচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী উশ্যেপ্রু মারমা।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি— দুই দলের প্রার্থীরই জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাহাড়ি-বাঙালি সমীকরণের সুযোগে বিএনপি প্রার্থী খানিকটা এগিয়ে থাকবেন। কেননা, এই দুই প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পাহাড়ি ও বিএনপির প্রার্থী বাঙালি। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তৃতীয় প্রার্থীও পাহাড়ি। ফলে দুই পাহাড়ি প্রার্থীর মধ্যেকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একমাত্র বাঙালি প্রার্থী হিসেবে সুবিধা পেয়ে যেতে পারেন বিএনপি প্রার্থী।
হাফছড়ি এলাকার ভোটার মো. মাহবুব আলীও পাহাড়ি-বাঙালি সমীকরণের বিষয়টিই সামনে টানলেন। তিবি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুরু থেকেই পাহাড়ি-বাঙালি ভোটের সমীকরণ মাথায় রেখেছে বিএনপি। দুই পাহাড়ি প্রার্থীর বিপক্ষে এককভাবে একজন বাঙালি প্রার্থী হয়তো বেশি ভোট টানতে পারবেন। এই চিন্তা থেকেই বিএনপি প্রার্থী নির্ধারণ করেছে।’ বাঙালি ভোট নিয়ে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তামুক্ত বিএনপি প্রার্থী পাহাড়িদের ভোট টানতেও প্রত্যন্ত পাহাড়ি পল্লীগুলো চষে বেড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মেমং মারমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গুইমারাকে উপজেলা ঘোষণা করেছে। নবগঠিত উপজেলার উন্নয়নও করবে এই সরকার। সুতরাং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটাররা নৌকাকেই বেছে নেবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী মো. ইউচুপ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আমি আশাবাদী। আর সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমিই জয়ী হব, এমন আত্মবিশ্বাস আমার রয়েছে।’
নির্বাচনের আরেক প্রার্থী উশ্যেপ্রু মারমার দলীয় পরিচয় নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে। তিনি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে তিনি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত প্রার্থী বলে জনশ্রুতি আছে। হাফছড়ি ইউনিয়নের সাবেক এই চেয়ারম্যান অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি ব্যক্তিজীবনে কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
উশ্যেপ্রু মারমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আমাকে ইউপিডিএফ সমর্থিত বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু আমি কোনও দলের সঙ্গে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে কাউকে ভোট কেড়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে না ভোটাররা।’ ভোট কারচুপি ঠেকাতে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ কমিটি গঠন করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থীর বাইরেও এই নির্বাচনে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুই জন ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থিরা হলেন আওয়ামী লীগের ঝর্ণা ত্রিপুরা ও বিএনপির হ্লাউচিং মারমা। আর পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিরা হলেন আওয়ামী লীগের মো. নুরুন্নবী, বিএনপির পূর্ণ কান্তি ত্রিপুরা এবং স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী সাংবাদিক মিল্টন চাকমা ও থোয়াইঅংগ্য চৌধুরী। এই পদগুলোতেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলেই মনে করছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।
তবে ভোটযুদ্ধে ফলাফল যাই হোক না কেন, চেয়ারম্যান প্রার্থীরা তা মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দ শেষে উপজেলার সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ্যেই তারা এ প্রতিশ্রুতি দেন। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কার গলায় পড়বে বিজয়ের মালা এবং নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রার্থীরা কতটুকু রক্ষা করতে পারেন।
/টিআর/আপ-এআর/