নোয়াখালীর শাহাজাদপুর গ্যাস ফিল্ডের ২ নম্বর কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্যাস পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাস নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা করা হয়। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের হাবীবপুর মৌজার সুন্দলপুরের শাহজাদপুর গ্যাস ফিল্ডে ২ নম্বর কূপে এ পরীক্ষা চালানো হয়। এরপর ১২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর আগামী দুই দিন বিভিন্ন ডায়া মিটারের পাইপে এ পরীক্ষা চালানো হবে বলে জানান বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওশাদ ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওশাদ ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক আলমগীর হোসেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মীর্জা।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নওশাদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাস নিশ্চিতকরণ পরীক্ষাকে আমরা উন্নয়ন ও মূল্যায়ন বলে থাকি। ’
তিনি আরও বলেন, ‘মোট ৩ হাজার ২৩৫ মিটার গভীর কূপটি খনন করে কয়েকটি স্তরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্য ১ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতার স্তরটি সবচেয়ে বড় ও সমৃদ্ধ। আশানুরুপভাবে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হলে তা বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করা যাবে। তবে গ্যাসক্ষেত্রটির আকার কত বড় এবং সেখান থেকে কত দিন পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।’
বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও প্রকল্প পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, এবছরের ১০ জানুয়ারি হাবিবপুর মৌজায় ৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে ২ নং কূপ খননের কাজ শুরু করা হয় এবং ১৪ শত মিটার গভীরে যাওয়ার পর গ্যাস পাওয়া যায়। এর পর আরও বেশি গ্যাস পাওয়ার আশায় ৩ হাজার ২৩৫ মিটার কূপ খনন করা হয়। কিন্তু গভীর কূপ খননের পর তেমন কোনও ফল পাওয়া যায়নি। যে কারণে ১৪শ’ মিটার কূপ থেকেই গ্যাস উত্তোলনের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২ নং কূপ থেকে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে সুন্দলপুর-শাহাজাদপুর গ্যাস ফিল্ডের ১ নং কূপ থেকে ১০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করার পর পানি উঠার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১নং কূপ থেকে ২৩শ’ মিটার দূরে ২ নং কূপ খননের কাজ শুরু হয়।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: আগামী বাজেট হবে ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব: এনবিআর চেয়ারম্যান