এক পশলা বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়!

এক পশলা বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়!অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যত্র-তত্র ময়লা আবর্জনা ও নির্মাণ সামগ্রীর স্তুপ ফেলে রাখার কারণে এক পশলা বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে দেড়শ বছরের পুরনো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অধিকাংশ রাস্তা ঘাট। এতে করে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান পৌর এলাকার বাসিন্দারা।  

১৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পৌরসভার লোক সংখ্যা আড়াই লাখেরও বেশি। প্রায় ১৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় একটু বৃষ্টি হলেই প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পৌরশহরের মুন্সেফপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘দেখে মনে হবে খাল কিংবা কোনও বদ্ধ জলাশয়ের দৃশ্য। মূলত দেড়শ বছরের প্রাচীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তাঘাটের চিত্র এমন। আসলে পৌরসভার কোনও অভিভাবক আছে বলে তো মনে হচ্ছে না।’এক পশলা বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়!

শহরের টেংকের পাড় এলাকায় পানিতে আটকাপড়া অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র প্রিতম দাস ও মো. আসিফ বলে, ‘স্কুলে ক্লাশ শুরু হয়ে গেছে। হাঁটু পানি পাড়ি দিয়ে এখনও আমরা স্কুল পর্যন্ত যেতে পারছি না। রাস্তায় পানির মধ্যে হেঁটে যেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।’  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল জানান, দীর্ঘদিন ধরে শহরের ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় ড্রেনের ওপর ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শহরের টেংকের পাড়, হালদার পাড়া, মুন্সেফ পাড়া, মৌলভী পাড়া, মাধ্যপাড়া, পশ্চিম পাইকপাড়া, কুমারশীল মোড়, কোর্টরোডসহ অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কৃত্রিম এ জলাবদ্ধতার কারণে পৌরবাসী চরম ভোগান্তিতে পরেছে।

বাগানবাড়ী এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘পৌরবাসীর দুর্ভোগ দেখার মতো কেউ আছে বলে মনে হচ্ছে না। যদিও বড়বড় কথা বলে, আসলে কাজের বেলায় কেউ নাই।’

এদিকে শহরে চলাচলকারী ছোটখাট যানবাহনগুলো চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। রিকশাচালক রাফিজ মিয়া ও সিএনজিচালক নজরুল ইসলাম জানান, রাস্তায় পানির কারণে ড্রেন এবং ড্রেনের ওপরের ঢাকনা চেনা যাচ্ছে না। ফলে যানবাহন নিয়ে গর্তে পরে যাচ্ছেন। এতে যানবাহনের ক্ষতির পাশপাশি যাত্রীরাও আহত হচ্ছেন।এক পশলা বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়!

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি জেসমিন খানম জানান, ‘আমাদের দাতিয়ারা এলাকার মানুষ বৃষ্টির পর থেকেই পানিবন্দি অবস্থায় আছে। আমাদের দেখার মতো পৌরসভায় কেউ আছে বলে মনে হচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে পারে না। শিগগিরই পৌর এলাকার সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি।’  

জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পৌর নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে পৌরসভার কোনও উদ্যোগ আছে কিনা জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবীর জানান, প্রতিদিন শহরে মৌসুমী ফল বিক্রেতাদের ফেলে দেওয়া লিচুর ডাল এবং তাল, ডাবের খোসার কারণে ড্রেনগুলো জ্যাম হয়ে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্যে পৌরসভার একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আস্তে আস্তে পানি সরে যাবে।’ জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি পৌরবাসীকে ড্রেনের মধ্যে ময়লা আবর্জনা না ফেলার জন্যে আরও সচেতন হওয়ার আহবান জানান।

/এফএস/ 

আরও পড়ুন- 
সংসদে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট

ওরা আমার চোখ বেঁধে রাখতো: ডা. ইকবাল (ভিডিও)