এই কান্নার শেষ কোথায়!

ঘূর্ণিঝড় মোরা’য় দুই সন্তান হারা দম্পতির আর্তনাদ‘ও-বাপরে, তোরা কোথায় গেলি, তোদের ছাড়া আমরা কী নিয়ে বাঁচবোরে বাপ। এখন আমাদের কী হবে, আমাদের কে দেখবে?’ এভাবেই কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলছিলেন ঘূর্ণিঝড় মোরা’র কবলে পড়ে দুই সন্তানহারা কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর পুটিবিলা দাসীমাঝি পাড়া গ্রামের অলি আহমদ ও জান্নাত আরা দম্পতি। এই দম্পতি সংসারে উপার্জনক্ষম দুই সন্তানকে হারিয়ে এখন কেঁদে কেঁদে দিন পার করছে। তারা জানেন না এই কান্নার শেষ কোথায়।

সন্তানহারা এই দম্পতি জানান, সংসারের উপার্জনক্ষম দুই ছেলে শহিদুল্লাহ (৩০) ও আমান উল্লাহ (২৮)। খুব অল্প বয়সেই তারা অভাবের সংসারের হাল ধরে।পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে তারা দিনরাত কাজ করতো।স্বপ্ন ছিল এই দুই সন্তান পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ করতে দেয়নি ঘূর্ণিঝড় মোরা।

শোকাহত দম্পতি অলি আহমদ ও জান্নাত আরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংসার জীবনে ৩ ছেলে ২ মেয়ে। এরমধ্যে বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদাভাবে সংসার করছে।বড় মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে। ২ ছেলে শহিদুল্লাহ ও আমান উল্লাহ এবং ছোট মেয়ে মৌসুমী আক্তারকে নিয়ে কোনও মতে সংসার চলছিল। গত ২৮ মে স্থানীয় কাউন্সিলর আব্দুল শুক্কুর বহদ্দারের মালিকানাধীন ট্রলার ‘এফভি সায়েদ’ নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায় আমার দুই ছেলে। এক সপ্তাহর জন্য খাদ্য সামগ্রী (রসদপাতি) নিয়ে মাছ ধরতে গেলেও গত ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাত হানার খবরে কূলে ফিরে আসতে চেষ্টা করলেও আমার সন্তানদের ফিরে আসা সম্ভব হয়নি। আসার পথে উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগরে (৬ ঘণ্টার যাতায়াতের পথে) ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয় তারা। সেই থেকে তারা এখনও ফেরেনি।’

Fishingman-pic-03বাড়িতে থাকা অলি আহমদ দম্পতির মেয়ে মৌসুমী আকতার (১৫) দুই ভাইকে হারিয়ে অনেকটাই নির্বাক। কাঁন্না জড়িত কণ্ঠে সে জানায়, দুই ভাইয়ের অনেক আদরের বোন ছিল সে।অর্থের অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেলেও ফের চালু করার কথা দিয়েছিল তার দুই ভাই। এজন্য তাকে স্কুলে ভর্তি করারও আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু, সেই আশার বাণীই এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে।

শুধু শহিদুল্লাহ ও আমান উল্লাহ নয়, এই জেলে পল্লীর অর্ধশত জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে কেউ হারিয়েছে স্বামী, আবার কেউ হারিয়েছে আদরের সন্তানকে। এ কারণে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে।

এদের অনেকেই জানিয়েছেন, স্বজনহারা এই গ্রামের শোকাহত পরিবারের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও সহায়তা পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই গ্রামের প্রতিটি মানুষের বিষয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর নির্দেশে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

/এআর/