কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলার দাসীমাঝি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জহির। ঘূর্ণিঝড় মোরার কবলে পড়ে যখন গভীর বঙ্গোপসাগরে তাদের ট্রলারটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ঝড়ের কবলে পড়ে নিজের জীবন বাজি রেখে মৃত্যুর দুয়ার থেকে পরিবারের মাঝে ফিরে এসেছেন তিনি। সেই বিভীষিকাময় ও দুঃসহ স্মৃতিই যেন এখন তার প্রতিদিনের সঙ্গি।
সেদিনের স্মৃতি মনে করে জহিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৮ মে উপকূল থেকে টানা দুইদিন ট্রলার চালিয়ে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ পশ্চিমে ভারতীয় জলসীমানার কাছাকাছি পৌঁছায় বহনকরী ট্রলারটি। হঠাৎ জানতে পারি ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আঘাত হানবে। তখনই মাছ ধরা বাদ দিয়ে কোনও কিছু না ভেবে আমরা উপকূলে ফিরে আসতে শুরু করি।কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারিনি। মোরার আঘাতে মুহূর্তেই আমাদের ট্রলার ‘এফভি সায়েদ’বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এই ট্রলারে মোট আমিসহ মোট ২৫ জন মাঝিমাল্লা ছিল। সবাই পানিতে পড়ে যায়। এসময় কিছুক্ষণ ট্রলার ধরে বাঁচার চেষ্টা করলেও তীব্র ঝড়ে ট্রলারটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এরপর উপায় না দেখে ট্রলারে থাকা রাবারের তৈরি পানির কন্টেইনার আকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করি।
একদিকে তীব্র বাতাস ও ঝড়ো হাওয়ার ধাক্কা সামলে নেওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে সামুদ্রিক মাছ ও নানা প্রজাতির মৎস্য প্রাণীদের কামড় সহ্য করতে হয়েছে। এতে আমার শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়।’
জহির বলেন, ‘ ঝড়ের কবলে পড়ে আপন দুই ভাই ও মাছ ধরার তিনটি ট্রলার নিখোঁজ থাকায় পুরো পরিবার এখন নিঃস্ব। একদিকে দুই ভাইয়ের শোকে গোটা পবিবারে চলছে শোকের মাতম, অন্যদিকে জীবিকা নির্বাহ করে বেঁচে থাকার একমাত্র মাধ্যম ট্রলার গুলোর হদিস না পাওয়ায় আমরা শঙ্কিত।সামনের দিন গুলো পুরো পরিবারকে না খেয়ে থাকতে হবে।’
জহিরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় কোনও জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এমনকি কারও কোনও ধরনের সহায় এখনও পাইনি। টাকার অভাবে মাছের কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাওয়া শরীরের চিকিৎসা করাতে পারছি না।’
/এআর/