রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত ১০১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে রাঙামাটি সদরে অন্তত ৫৩ জন, কাপ্তাইয়ে ১৮ জন ও কাউখালীতে ২৩ জন, বিলাইছড়িতে ২ জন, জুড়াইছড়িতে ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এখনও শহরের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, রাঙামাটিতে সোমবার থেকে শুরু হওয়া বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ চালাতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গিয়ে ক্যাম্পের পাহাড় ধসে চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। একজন নিখোঁজ আছেন, আর আহত হয়েছেন ১০ জন।
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মো. দিদার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উদ্ধার তৎপরতায় লোকবল সংকট ছিল। এ জন্য চট্টগ্রামে সাহায্য চাওয়া হয়। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে উদ্ধার টিম সকালে আসার কথা থাকলেও তারা বিকালে এসে পৌঁছায়। চট্টগ্রাম থেকে ৬০ জনের একটি টিম এখানে যোগ দিয়েছেন। আশা করছি বৃহস্পতিবারই উদ্ধারকাজ শেষ হবে।’ রাঙামাটি শহরের বাইরে আপাতত পাহাড় ধসে নিখোঁজের আর কোনও খবর নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে চট্টগ্রামে আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক জসিমউদ্দিন জানান, ‘মঙ্গলবার চান্দনাইশে উদ্ধার তৎপরতা চালানোই যায়নি। ঘটনাস্থলের কাছে কোমর সমান পানি থাকায় ও এলাকা খুব দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা সেখানে যেতে পারেননি। স্থানীয় লোকজনই উদ্ধার কাজ চালায়।’ রাঙ্গুনিয়ায় মঙ্গলবারই উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে সেখানে এখনও মাটি খোঁড়াখুড়ি চলছে বলেও জানান জসিমউদ্দিন।
বান্দরবানে নিখোঁজ দুই জনকে দুই দিন চেষ্টার পর উদ্ধার করা হয়। এরপর সেখানেও উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তারিকুল ইসলাম।
/এমপি/এফএস/ টিএন/
আরও পড়ুন-
পাহাড় ধসে চার জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৭