বান্দরবানের পাহাড় ধসে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। গত কয়েক বছরে জেলার বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসের এমন ঘটনা ঘটেছে প্রায় নিয়মিতভাবে। এসব ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগই বাঙালি। সাধারণত তারাই অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে মাটি সমান করে। পরে পাহাড়ের নিচের অংশ সমতল করে বাড়ি বানায়। আর বর্ষায় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে তা ঘরের ওপর ধসে পড়ে।
বর্ষার সময় পাহাড়ের কাটা অংশ দিয়ে দ্রুত বৃষ্টির পানি মাটির গভীরে পৌঁছে যায়। পানি পেয়ে পাহাড়ের ভেতরের মাটি ধীরে ধীরে কাঁদায় রূপ নেয়। একসময় মাটি নরম হয়ে গেলে পাহাড় তার ভারসাম্য হারায়, নরম অংশকে আর ধরে রাখতে পারে না। এ কারণে তা ধসে পড়ে নিম্নাংশে থাকা বাড়িতে।
অন্যদিকে পাহাড়িরা মাটি না কেটে সেখানে মাঁচাং বেঁধে তার ওপর সুপরিকল্পিতভাবে পাহাড়ের ঢালেই বাড়ি তৈরি করতো। এ কারণে পাহাড়ের রূপের কোনও পরিবর্তন হয় না। পাহাড়ের ওপরের মাটির শক্ত অংশও নষ্ট হয় না। এ কারণে সেখানে পাহাড় ধসের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখা যায় না।
কয়েকটি পাড়া ঘুরে দেখা যায়, যেসব পল্লীতে বাঙালিদের মতো পাহাড় কেটে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোতেই পাহাড় ধসে কিছু কিছু পাহাড়ি মারা গেছে। তবে বেশিরভাগ সময় পাহাড় ধসে বাঙালিদের প্রাণহানিই বেশি হয়।
কালাঘাট সেটেলার পল্লীর বাসিন্দা জামাল বলেন, ‘আমাদের মতো পাহাড়িদের থাকার জন্য বসতবাড়ি নিরাপদ হলেও তাতে ব্যয় হয় প্রচুর। আবার মাচাং-এ ওঠানামা এবং মালামাল আনা-নেওয়াও কষ্টকর। সব মিলিয়ে সামান্য পাহাড় কেটে ঘর করলে খরচও কম এবং মালামাল আনা নেওয়াও সহজ হয়।’
পৌরসভার উপ-সহকারী রাজিব বলেন, ‘সব স্থানেই পরিবেশ ও মাটির ভিন্নতা রয়েছে। এসবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং পরিকল্পনা নিয়ে বাড়ি বানাতে পারলে কোনও সমস্যা হয় না। একটি অনিয়ম হলেও বাড়ি টেকে না। শুধু পাহাড় নয়, অনেক জায়গায় বহুতল ভবনও ধসে পড়ে শুধু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করার কারণে। নিয়ম মেনে চললে পাহাড়েও ঘর নির্মাণ করা নিরাপদ।’
বিগত বছরগুলোতে পাহাড় ধসে যারা মারা গেছে তাদের শতকরা ৮০ শতাংশই বাঙালি বলে জানান মৃত্তিকা অফিসের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেটেলার পল্লীতে কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়। পরিকল্পনামাফিক সামান্য পাহাড় কেটে বাড়ি বানালে কিন্তু কোনও সমস্যা থাকে না। কিন্তু যার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই পাহাড় কেটে এর পাদদেশে বাড়ি বানাচ্ছে।’
/জেএইচ/