ফেনী নদীর ভাঙন, বিলীন হওয়ার পথে রামগড়ের কলসী মুখ!

News-Photo-(1)সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি জেলার সীমান্তবর্তী রামগড় উপজেলার কলসী মুখ এলাকায় ফেনী নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। এত চরম বিপাকে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ। নদীর ভাঙন রোধ করতে না পারলে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিলীন হতে পারে কলসী মুখ নামক গ্রামটি। এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নেবে সরকার।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সদর হতে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ২৫০ একরের সীমান্ত কলসী মুখ গ্রামটিতে প্রায় ৫০ পরিবারের ৩০০ উপজাতী মারমা-ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বসবাস। তিন দিক থেকে ফেনী নদীর গতিপথ বেষ্টিত গ্রামটির পুরোটাই ভারত গর্ভে। গ্রামে প্রবেশের পথে ১০০ থেকে ১২০ গজ প্রবেশ মুখের পূর্ব পাশে সম্প্রতি পাহাড়ী ঢলে ফেনী নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রামটিতে প্রবেশ মুখে তথা কলসীর মুখের ভাঙনটি ঠেকানো না গেলে ভারতের গর্ভে বিলীন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। ফেনী নদীর তীব্র প্রবাহমান খরস্রোত থেকে গ্রামটিকে রক্ষা করা না হলে বাংলাদেশের থেকে গ্রামটি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে গ্রামবাসীর।
এদিকে রামগড় পৌর এলাকার বল্টুরাম, আনন্দপাড়া, রামগড় বাজার ঘাট, থানা ঘাট, দারগাপাড়া, মহামুনী ও ফেনীরকুল সীমান্তে শহর রক্ষা বাঁধ হিসেবে নির্মিত সি সি ব্লকগুলি ফেনী নদীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এক যুগ আগে অপরিকল্পিতভাবে এসব সি সি ব্লক নির্মাণ করায় হুমকিত রামগড় শহর এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি থিংথোয়াই মারমা বলেন, কলসীর আকৃতিতে গড়া সমতল গ্রামটি এখন রামগড় উপজেলার একটি বৈচিত্রময় দৃষ্টিনন্দন কৃষি সমৃদ্ধ গ্রাম ও ব্যক্তিক্রমী পর্যটন গ্রামও বটে। তিন দিক থেকে সীমান্ত নদীঘেরা গ্রামটির প্রবেশ মুখের ধারাবাহিক ভাঙনে আমাদের অস্তিত্ব এখন হুমকীর মুখে। দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে হয়তো কোনও এক সকালে উঠে দেখবো বাংলাদেশ থেকে আমরা এখন বিচ্ছিন্ন এক জনপদের বাসিন্দা।Edit-News-Pic-(3)
ওয়ার্ড মেম্বার থুইমং বলেন, ‘গ্রামটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন সব মহলকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। অথচ সামান্য কয়েক লাখ টাকার সিসি ব্লক স্থাপন প্রকল্প হাতে নিলে গ্রামটির প্রবেশ মুখের ভাঙন রোধ করা সম্ভব। অন্যথায় গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে দেখা দেবে সীমান্ত জটিলতা আর সেতু বা সংযোগ পুনস্থাপনে কয়েক কোটি টাকা লাগতে পারে।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বলেন, ‘কলসীর মুখে ভাঙনের খবর পেয়ে আমি এলাকটি পরিদর্শন করেছি। ভাঙনটি রক্ষায় বিলম্ব হলে গ্রামটি বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সহায়তা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, ‘খবরটি শুনে আমি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের থেকে কোনও জবাব আসেনি। পুনরায় বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি লেখা হবে।

/এআর/