কর্মস্থলে যান না থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা, বাড়ছে কাঠ পাচার!

Bandarban Tree pic (3)থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা নিজ কমর্স্থলে না থেকে থাকছেন বান্দরবানে। আর এ সুযোগে অবৈধ কাঠ পাচার বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা লুচেন ম্রো অভিযোগ করেন, থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকাম্মেল কবির কর্মস্থলে থাকেন না। শুধু মাসের শেষে অবৈধ কাঠ পাচারকারীদের কাছ থেকে মাসোহারা নিতে আসেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জোত পারমিট কাগজের কাঠ প্রতি গাড়িতে লোডিং চেকের সময় আদায় করা হয় আড়াই হাজার টাকা।

কাঠ ব্যবসায়ী সৈয়দ নূর অভিযোগ করেন, থানচি মৌজা হেডম্যানের নামে একটি জোত পারমিটের অনুকূলে পাঁচটি ট্রাকে করে সেগুন গাছ বান্দরবানে আনার জন্য গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় জোত পারমিটের সঙ্গে গাছের মিল নেই উল্লেখ করে তার কাছে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা।

Bandarban Tree pic (2)থানচির উহ্লাচিং বলেন, সম্প্রতি থানচি মৌজা হেডম্যান হ্লাফসু মারমা এর নামে যে জোতটি করা হয়েছে তা নিয়মবহির্ভুতভাবে বিনা তদন্তে ইস্যু করা হয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মী খামলু ম্রো’র অভিযোগ, গত এক বছরে থানচি রেঞ্জের বিভিন্ন মৌজার জোত পারমিটের কাগজ ব্যবহার করে সাংগু রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে অন্তত এক লাখ ঘনফুটের গর্জন, চাপালিশ, গোদা, গুটগুটিয়া, নিষিদ্ধ ঘোষিত মাদার ট্রি, চাম্পাফুল, জারুলসহ বিভিন্ন মূল্যবান প্রজাতির কাঠ পাচার হয়ে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি টাকা।

এ নিয়ে প্রধান বন সংরক্ষক ড. জগলুর হোসেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ওয়ার্কিং প্লান) মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম ফরেস্ট ইউটিলাইজেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে সদস্য সচিব এবং কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ ইউছুপকে সদস্য করে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

অফিসে এবং মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন তদন্ত করে তাদের জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তার নিয়মিত নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করে তদন্ত কমিটির প্রতিনিধি দলকে সার্বিক সহযোগিতা করার নির্দেশনা থাকলেও তিনি সরকারি নির্দেশনা মানছেন না। বরং তিনি কর্মস্থলে না গিয়ে নিয়মিত বান্দরবান সদরে অবস্থান করছেন।

এ ব্যাপারে থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকাম্মেল কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Bandarban Tree pic (1)এ বিষয়ে বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রেঞ্জ কর্মকর্তা থানচির অফিসে ঠিকমত যাচ্ছে না-  খবরটি আমার কাছে আগেও এসেছে। তার বিষয়ে আমি অফিসিয়ালি ব্যবস্থা নেব। তবে সাংগু রিজার্ভ ফরেস্ট মূলত বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পার্বত্য অঞ্চলে অবাধে মুভমেন্ট করা এবং আইন প্রয়োগ করার মত পরিস্থিতি নেই। তারপরও বিভিন্ন স্থানে সোর্স লাগিয়ে রাখা হয়েছে। গাছ কাটা কিংবা পাচারের খবর পেলেই তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার এবং বনবিভাগের পক্ষ থেকে অত্র এলাকায় জোত পারমিট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

/বিএল/