সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করা নিয়ে জেলার রামগড় উপজেলার দুর্গম সোনাইআগা, বটচন্দ্রপাড়া ও কালাডেবা এলাকায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই উত্তেজনার কারণে আতঙ্কিত অবস্থায় আছে এসব এলাকার পাহাড়ি ও বাঙ্গালি পরিবারগুলো। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি পরিস্থিতি শান্ত এবং নিয়ন্ত্রণে আছে।
রামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম মজুমদার জানান, শুক্রবার (৩০ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সোনাইআগা সংলগ্ন স্লুইস গেইট এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। গুলির শব্দে আতঙ্কিত বাঙ্গালিরা সংঘবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে দুর্গম বটচন্দ্র পাড়া পর্যন্ত যায়। এই সময় আশপাশে বসবাসকারী পাহাড়িরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। কারো কোনও ক্ষতি হয়নি বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন,‘এমনিতেই এই এলাকায় বিভিন্ন সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে বাঙ্গালিরা নাজেহাল হওয়ায় ক্ষুব্ধ। এছাড়া ঈদের পরের দিনও এই এলাকায় সন্ত্রাসীরা গুলি ছুঁড়েছে। এসব নিয়ে বাঙ্গালিরা আতঙ্কিত। পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানা এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় নিয়মিত টহল দেওয়া সম্ভব হয় না। আর কাউকে চিনতে না পারায় লোকজন মামলা দিতে পারছে না। মামলা না হওয়ায় পুলিশের পক্ষেও আইনগত কোনও ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
রামগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার ক্যারি মারমা জানান, রাত ১১টার দিকে কয়েক শত বাঙ্গালিদের ধর ধর, মার-মার শব্দে পাহাড়িরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকে ভয়ে বাড়ি-ঘর ফেলে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। তিনি নিজেও সেলফোন বন্ধ করে আঁধারে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে পুলিশ ও বিজিবির কারণে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে তিনি জানাজ।
তিনি আরও বলেন,‘আপনারা (সাংবাদিকেরা) জানেন সম্প্রতিক একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকশত পাহাড়ি বাড়ি ঘর হারিয়েছে। এই জন্য এমনিতেই পাহাড়িরা আতঙ্কিত। হুটহাট করে রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি এলাকায় বাঙ্গালিদের প্রবেশ না করার অনুরোধ জানান তিনি।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বাঙ্গালিরা সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করতে গিয়ে পাহাড়ি এলাকায় ঢুকে পড়ে। তবে তারা কোনও পাহাড়ির ওপর হামলা করেনি। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়নি। রাত বারোটার দিকেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-মামুন মিয়া জানান, পুরো রাত জুড়েই তিনি ফোন পেয়েছেন। লোকজন তাকে বিভিন্ন গুজবের কথা বলেছেন, নিরাপত্তা চেয়েছেন। তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ি-বাঙ্গালি সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে। কোনও অভিযোগ থাকলে প্রশাসনকে জানান। নিজেদের হাতে কেউ আইন তুলে নিবেন না।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: খুলনার ডুমুরিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত, ৬ পুলিশ আহত