রামগড়ে পাহাড়ি-বাঙালি উত্তেজনার নেপথ্যে চাঁদাবাজি!

পাহাড়ি-বাঙালি উত্তেজনা, রামগড়ের সোনাইআগা এলাকায় এক শান্তি-সম্প্রীতি বৈঠকচাঁদাবাজির কারণেই অস্থিরতা বিরাজ করছে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার দুর্গম সোনাইআগা, বটচন্দ্রপাড়া ও কালাডেবা এলাকায়। স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন বলছে, পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে এই চাঁদাবাজি।
শুক্রবার (৩০ জুন) সৃষ্ট উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (০২ জুলাই) দুপুরে সোনাইআগা এলাকায় এক শান্তি-সম্প্রীতি বৈঠক হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসন ও তিন গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা যোগ দেন। সেখানে স্থানীয়দের দাবির মুখে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য এলাকায় শিগগিরই একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের আশ্বাস দেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ ও পাল্টা ধাওয়াকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার রাতে সোনাইআগা, বটচন্দ্রপাড়া ও কালাডেবা এলাকায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় ভয়ে অনেক পাহাড়ি ঘর ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে বিজিবি ও পুলিশের উপস্থিতিতে তারা ঘরে ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি।

রামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম মজুমদার জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সোনাইআগা সংলগ্ন স্লুইস গেইট এলাকায় সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে বাঙালিরা তাদের ধাওয়া করে দুর্গম বটচন্দ্রপাড়া পর্যন্ত যায়। এই সময় আশপাশে বসবাসকারী পাহাড়িরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

শনিবারের বৈঠকে পাহাড়ি এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ক্যারিপ্রু মারমা, মিউপ্রু মারমা, আমিয়া মারমা, চাইলাপ্রু মারমা, মংসাথোয়াই মারমা বক্তব্য রাখেন। তারা সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির কারণে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

বাঙালিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, ইউপি সদস্য আবুল বশর, হাফিজুর রহমান, আমির হোসেন, মীর হোসেন,  মোহাম্মদ হোসেন। তারা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন সহঅবস্থানে আছি, কখনও কারও সঙ্গে কোন কিছু নিয়ে বিরোধ হয়নি।’ তারা শুক্রবার রাতের অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য ইউপিডিএফের চাঁদাবাজিকে দায়ী করেন। সমস্যা সমাধানে দ্রুত একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করে এলাকাবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষার দাবি জানান তারা।

এ সময় রামগড় থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির কারণে শুক্রবার রাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আপনারা পাহাড়ি-বাঙালি সম্মিলিতভাবে চাঁদাবাজদের প্রতিহত করবেন। তিনি এলাকার শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, চাঁদাবাজরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রশাসন তাদের বিরূদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বৈঠকে রামগড় পৌরসভার মেয়র কাজী শাহজাহান রিপন ও কাউন্সিলর আহসান উল্ল্যাহসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা ইউপিডিএফের প্রেস সেক্রেটারি নিরন চাকমা বলেন, ‘ইউপিডিএফের কেউ চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত নয়।’ শুক্রবারের ঘটনা চাঁদাবাজির জন্য নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মূলত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি ছাড়া করতে বাঙালিরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।’ 

 /এএম/এসএমএ/