কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারকারী জেলে মকুল দাস বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমরা নিয়মিত সরকারি এই সহযোগিতা পাচ্ছি না। গত বছর অনেক অন্দোলন করে দুই মাসের চাল পেয়েছি। এ বছর তো কোনও খবরও নাই। দুই মাস শেষ হলো, কীভাবে বউ, বাচ্চা নিয়ে বেঁচে আছি তা আমি ছাড়া আর কেউ জানে না। সরকারি এই সহযোগিতা পাওয়া গেলে দুই বেলা অন্তত পেট ভরে কিছু খাওয়া যায়।
লংগদু জেলে সমিতির সভাপতি মো. ইমাম হোসেন বলেন, ‘আগে সরকার আমাদের প্রতি জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দিতো। আমরা গত বছর আন্দোলন করে প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করি। কিন্তু এ বছর আর কোনও খবর পাচ্ছি না। সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কিছু বলছেও না। কখন যে এই বরাদ্দ পাওয়া যাবে তার কোনও ঠিক নাই। আর কয়েকদিন পর মাছ ধরা শুরু হবে তখন এই চাল দিয়ে আমরা কী করবো? এখনও সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের এই বরাদ্দ ছাড় করা হোক।’
মৎস্য ব্যবসায়ী জালাল আহম্মেদ মিন্টু বলেন, হ্রদের ওপর নির্ভরশীল জেলেদেরকে তিন মাস মাছ ধরার নিষিদ্ধ মৌসুমে যদি পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া হয় তাহলে তারা চুরি করে আর মাছ শিকার করবে না। তাই জেলেদের পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
রাঙামাটি মৎস্য করপোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপক মো. মাসদুল আলম জানান, গত বছর প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা হয়েছিল। এ বছর তা এখানও আসেনি। বরাদ্দ না আসার বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ দেখতে পারছি না। বরাদ্দ আসলে জেলেরা কিছুটা ভালোভাবে চলতে পারবে।
জেলার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসার বিশ্বনাথ মহাজন বলেন, ‘আমরা এখনও জানি না, বরাদ্দ কখন আসবে। আমরা চিঠি লিখেছি, আশা করি খুব শিগগিরই চলে আসবে।’
/এআর/