খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় বাবা-ছেলেকে হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ। আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে অভিযোগ করে তারা শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে ‘সংবাদ সম্মেলন’ করেন। এসময় তারা আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি জানান। আসামিদের গ্রেফতারের পুলিশের অবহেলার অভিযোগ করেন তারা।
এসময় নিহত চিরঞ্জিত ত্রিপুরা ছেলে নিহার কান্তি ত্রিপুরা জানান, পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না। পুলিশ বলছে তারা আসামিদের খুঁজে পাচ্ছে না। আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে পলাতক আছে। এ অবস্থায় তারা খুব বিপাকে আছেন বলে জানান। কারণ সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকি কারণে তাদের পুরো পরিবার বাড়ি ছেড়ে খাগড়াছড়ি বাজারে অবস্থান করছে। আসামিদের ভয়ে তারা প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে বের হতে পারছেন না।
তিনি আরও জানান, আসামিরা গত ৭/০৫/১৭ তারিখে খাগড়াছড়ি বাজারের ফার্মেসি গলির মধুবন দোকানের সামনে তার বাবা চিরঞ্জিত ত্রিপুরার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা চিরঞ্জিতকে মারধর করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে ৩৫০০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে তার বাবা মামলা করার জন্য প্রথমে খাগড়াছড়ি সদর থানায় যান। কিন্তু আসামিরা সরকার দলীয় এবং প্রভাবশালী বলে পুলিশ তার মামলা নেয়নি। পরে তিনি ১১/০৫/১৭ তারিখে খাগড়াছড়ি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
এতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ৬০/৬৫ জনের একটি স্বসস্ত্র দল নিয়ে তাদের সদর উপজেলার নুনছড়ি থলিবাড়ি এলাকার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় আসামিরা তার বাবা চিরঞ্জিত ত্রিপুরা ও বড় ভাই কর্ণ বিকাশ ত্রিপুরাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এছাড়াও আসামিরা তার বড় ভাবিকে ধর্ষণ এবং বাড়িতে লুটপাট করে। এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে ১২/৫/১৭ তারিখে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন। মামলা দুটি করার পর দীর্ঘ দিন পার হলেও এর কোনও অগ্রগতি নেই। উল্টো আসামিদের কেউ কেউ মামলা থেকে তাদের নাম বাদ না দিলে পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এই নিয়েও সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ ক্ষমতাশীলদের গ্রেফতার না করে তাদের মদদ দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এসময় নিহার কান্তি ত্রিপুরা বলেন, ‘আমরা শুধু পরিবারের দু’জন সদস্যকেই হারাইনি। ঘর-বাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য, জায়গা-জমি, ইজ্জত ও আভিজাত্যসহ সব হারিয়েছি। আজ আমরা অসহায় হয়ে খাগড়াছড়ি শহরে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহত চিরঞ্জিত ত্রিপুরার স্ত্রী ভবেলক্ষী ত্রিপুরা, মেয়ে রেনিকা ত্রিপুরা, দুই ছেলে নিহার কান্তি ত্রিপুরা, উমেশ ত্রিপুরা, নিহত ছেলে কর্ণ বিকাশ ত্রিপুরার স্ত্রী বিজলী ত্রিপুরা।
এ ব্যাপারে পুলিশের কোনও অবহেলা নেই উল্লেখ করে পুলিশ সুপার আলী আহমেদ খান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। কয়েক জন আসামিকে এরইমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। আশা করি সব আসামিকে পুলিশ আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: সোনাগাজীতে দুটি মিনি স্লুইসগেট নদী গর্ভে, ১০টি অকার্যকর