বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. শাহ আলম নিখোঁজের পর আবু সাঈদ শেখ (২৪) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। দু’জনেই গত সোমবার (৩ জুলাই) থেকে নিখোঁজ বলে জানা যায়।
নিখোঁজ আবু সাঈদ শেখের (২৪) বাড়ি গোপালগঞ্জ হলেও তিনি নিখোঁজ হন মুন্সীগঞ্জ থেকে। সে নারায়ণগঞ্জের মাদানীনগর মাহাদুস শাইখ ইদ্রিস আল ইসলামী মাদ্রাসার শিক্ষক। সাঈদ শেখ গোপালগঞ্জ শহরের ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের সৈয়দ আলী শেখের ছেলে।
মাদ্রাসা শিক্ষক সাঈদের চাচাত ভাই ফখরুল আলম মোবাইল ফোনে জানান, ঈদের পর দিন (২৭ জুন) সাঈদ ছুটিতে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ আসেন। এরপর গত ৩ জুলাই রবিবার বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন মোড় থেকে ফাল্গুনি পরিবহনের একটি বাসে উঠে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর লঞ্চে পদ্মা পার হয়ে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে বাসে উঠে সাঈদ তার বোন আসমা খানমের সঙ্গে মোবাইলে ফোন কথা বলেন। মাদ্রসায় পৌঁছে তাকে মোবাইলে ফোন দিয়ে জানাবে বলে তিনি ফোন রেখে দেন। এরপর রাত ১১টার দিকে আসমা খানম সাঈদের মোবাইলে ফোন দিয়ে বন্ধ পান। পরে বিষয়টি মাদ্রসা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা হাসাপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে সাঈদের কোনও খোঁজ পাননি। এ ঘটনায় শুক্রবার (৭ জুলাই)গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে সদর থানার ওসি সেলিম রেজা তাকে মুন্সিগঞ্জে জিডি করার পরামর্শ দেন।
মাদ্রাসার হিসাব বিভাগের শিক্ষক ইখতিয়ার রায়হান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘দুই মাস আগে আবু সাঈদ এ মাদ্রাসায় যোগ দেন। ঈদের ছুটি শেষে বাড়ি থেতে ঢাকায় ফেরার সময় থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার পরিবারের লোক জন জানায়। এরপর আমরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা হাসপাতাল ও যাত্রবাড়ি থানায় খোঁজ নিয়েছি। বুধবার ও বৃহস্পতিবার স্বজনদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, ‘আবু সাঈদ মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে ফোনও করে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। তাই নিয়ম আনুযায়ী মুন্সিগঞ্জে জিডি করতে হবে।’
এদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের মুয়াজ্জিনের মো. শাহ আলম নিখোঁজের ৫ দিন পার হলেও তার কোন খবর পাওয়া যায়নি।
গত সোমবার (৩ জুলাই) বেলা ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের অদূরে ঘোনাপাড়া বাজারে যান। এরপর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। নিখোঁজ মো. শাহ আলমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. আমীনুল ইসলাম জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করা হচ্ছে। তাকে দ্রুত খুঁজে বের করা হবে। তাকে পাওয়া গেলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: বাবা-ছেলের হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ বলছে পলাতক!