অবৈধ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) ব্যবসায়ীরা শহর ছেড়ে এখন উপজেলা পর্যায়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার ভিওআইপি সামগ্রীসহ তিন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান র্যাবের উপ-পরিচালক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান।
আশিকুর রহমান বলেন, ‘শহরে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা শহর ছেড়ে এখন উপজেলা পর্যায়ে আস্তানা গাড়ছে। তুলনামূলক বেশি নিরাপদ হওয়ায় তারা উপজেলাকে বেছে নিচ্ছে।’
গ্রেফতারকৃত তিন ভিওআইপি ব্যবসায়ী হলেন, ফটিকছড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন (৩৩), একই এলাকার মো. ইমন উদ্দিন (২১) এবং হাটহাজারী উপজেলার মো. আবু তালেব (২৫)। তাদের মধ্যে সালাউদ্দিনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর খুলশী ও বায়েজিদ থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, ফটিকছড়ি বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের একটি দোতলা ভবনে কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি সরকারি কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভিওআইপি’র ব্যবসা করছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি টিম শনিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই ভবনে অভিযান চালায়। অভিযানের পর ওই ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ ভিওআইপি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সালাউদ্দিন নামে একজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীতে অভিযান চালিয়ে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে ১০টি চ্যানেল ব্যাক/গেটওয়ে, ২টি ফ্লেক্সিলোড সার্ভার, ৬টি টিপি লিংক রাউটার, ১টি ডি-লিংক রাউটার, ৪টি পেনড্রাইভ, ১২টি ইন্টারনেট মডেম, ৮টি ল্যাপটপ, ১৩৯টি জিএসএম অ্যান্টিনা, ১২টি মোবাইল সেট, বিভিন্ন কোম্পানির ৮৮১৬টি সিম কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের ভিওআইপি সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
র্যাব-৭ এর উপ-পরিচালক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান বলেন, ‘উদ্ধারকৃত ভিওআইপি সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা। গ্রেফাতার তিন আসামি এবং উদ্ধারকৃত ভিওআইপি মালামাল টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ অনুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামি এবং ফটিকছড়ি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : বেনাপোলে হেরোইনসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক