এমপি তাজুলের বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জিডি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার এবং হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা। বুধবার (১৩ জুলাই) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন ফারুক রাজধানীর পল্লবী থানায় এ জিডি করেন। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের মৃত সিরাজুল হকের ছেলে।

সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা জিডিজিডির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. দিদার হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে জিডিতে সংসদ সদস্যের ঢাকার এবং গ্রামের বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করা হলেও তার পদের কথা উল্লেখ করা হয়নি, বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জিডিতে মো. তাজুল ইসলামের ঢাকার এবং গ্রামের বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করে ফারুক লেখেন, ‘আমার প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে আমাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে তিনি লিপ্ত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। সে এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্য নিজেকে পেশাদার খুনি দাবি করে আমাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলছে যে- তুই যদি তাজুল স্যারের পথে কোনও বাধা সৃষ্টি করিস তাহলে তোকে খুন করার আদেশ দিয়েছে স্যার। তোকে একটা সুযোগ দিচ্ছি, তাজুল স্যারের পথে কোনও বাধা সৃষ্টি করবি না। স্যারের ক্ষমতা এবং টাকা দুটোই আছে। তোর মতো ছেলে এর আগেও সে হজম করে ফেলেছে।’

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামজিডিতে এসব কথা উল্লেখ করে ফারুক আরও লেখেন, এ ঘটনায় আমি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছি এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছি না। যেকোনও সময় তাদের দ্বারা আমার জীবননাশসহ জানমালের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জিডির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আর আমি তাকে হুমকি দেব কেন? আমি তাকে কোনও হুমকি দিইনি।’

এ ব্যাপারে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা দিদার হোসেন বলেন, ‘যেকোনও ব্যক্তির আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফারুকের ওই জিডির বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

/এএইচ/এমও/