আনন্দময় পরিবেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই হয়েছে হাবিবার বিয়ে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকেই সরকারি শিশু পরিবারে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। দুপুর ২টায় বরের গাড়িবহর কনের আবাসস্থলে এলে পড়ে যায় হৈচৈ। সরকারি শিশু পরিবারে বরকে বরণ করেন অন্তত একশ’ অনাথ শিশু।
অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আজ আমার মধ্যে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। হাবিবা সুখে থাকুক, এটাই চাই আমরা। ও সুখে থাকলে আমরা খুশি হবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ রকম শত শত হাবিবা আছে, তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। সবাই মিলে এগিয়ে এলে সমাজ বদলে যাবে। এগিয়ে যাবে আমাদের দেশ।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ। শিশু পরিবারের অন্য যারা আছে তাদের বিয়ে-চাকরিসহ সবক্ষেত্রে সরকারের পাশপাশি সমজের বিত্তবানদের দ্বারস্থ হবো।’
পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার কথাও জানাতে ভোলেননি। তারা বলেন, ‘আমরা অনাথ। আমাদের ভবিষৎ যেন হাবিবা আপার মতো হয়। সরকার ও সমাজের বিশিষ্টজনরা যেন আমাদের জন্য এগিয়ে আসেন, সেই প্রত্যাশা করি।’
১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি শিশু পরিবার ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল হাবিবার। কিন্তু মায়া কাটাতে পারেননি তিনি। তাই ১০ বছর এই শিশু পরিবারের স্মৃতি কাটিয়ে মামা-মামির কাছে ফিরে যাওয়া হয়নি তার। পরে শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা খাতুন তার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকারের সহায়তায় হাবিবার দায়িত্ব নেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। সবার প্রচেষ্টায় ঠিক হয় তার বিয়ে। সেই বিয়ের পুরো দায়িত্বই নিজের কাঁধে তুলে নেন এসপি মিজানুর রহমান। বৃহস্পতিবার হলুদ অনুষ্ঠানের পর শুক্রবার হয়ে গেলো সেই আলোচিত বিয়ে।
/জেএইচ/