সীতাকুণ্ডের আরও ১৬ শিশুকে শনিবার (১৫ জুলাই) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে গত চার দিনে ওই পাড়ার মোট ৮১ জন শিশু অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর আগে গত বুধবার ( ১২ জুলাই) জানা যায় জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি ও পাতলা পায়খানাসহ অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি এলাকার ত্রিপুরা পাড়ায় ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম হাসান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ আরও ১৪ শিশুকে বিআইটিআইডি’তে ভর্তি করা হয়েছে। সামন্য জ্বর জ্বর অনুভব করায় পরিবারের লোকজন তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমরা তাদের ভর্তি করিয়ে দিই। তাদের মধ্যে অজ্ঞাত ওই রোগের ভয়াবহ কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি।’
এর আগে গত বুধবার অজ্ঞাত রোগে আক্রান্তের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৬ শিশুকে হাসপাতালে পাঠান। একই রোগে বৃহস্পতিবার সাত জন এবং শুক্রবার আরও ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ডাক্তার এম হাসান চৌধুরী বলেন, গত কয়েক দিন ধরে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের সবাই এখন অনেক সুস্থ। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে নির্দেশনা আসার পর আমরা তাদের ছাড়পত্র দিয়ে দিবো।
সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘শনিবার দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি টিম ত্রিপুরা পাড়ায় যায়। তখন জ্বর ও সর্দি অনুভব করায় ১৬ শিশুকে বিআইটিআইডি’তে এনে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এসব শিশুর সবাই আশঙ্কামুক্ত। অগ্রিম সাবধানতা থেকেই তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিআইটিআইডি থেকে আজ ২০ শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।’
জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাঁশি, পাতলা পায়খানাসহ অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে এক অজ্ঞাত রোগে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি এলাকার ত্রিপুরা পাড়ায় ৯ শিশু মারা যায়। চলতি মাসের শুরুতে থেকে শিশুরা এ অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হলেও গত বুধবার দুপুরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। আক্রান্ত একটি শিশুকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে, তিনি বিষয়টি সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকীকে জানান। পরে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ওই দিনই ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে পাঠান।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: ‘খালি নুন থাকে, বাকি সব এক বেলায়ই শেষ’