শনিবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিভিল সার্জন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সীতাকুণ্ডে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম সর্ম্পকে অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার শিশুরা টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির নির্দেশে ওই এলাকায় কর্মরত ছয়জন মাঠকর্মীকে বদলি করা হয়েছে। শুধু তাদের শিক্ষা হয়েছে তাই নয়, এ ঘটনায় আমরাও শিক্ষা নিয়েছি। প্রতিটি উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের আমরা নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন নিজ নিজ এলাকার এই ধরনের ছোট ছোট পকেটগুলো খুঁজে বের করে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই এলাকাগুলোকে যেন টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসে।’
তিনি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘটনার পর নিজেরা স্বশরীরে গিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এইসব পকেটগুলোর খোঁজখবর নিয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলায় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসে নাই এ ধরনের আর কোনও এলাকা তারা খুঁজে পাননি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইপিআই সদর দফতরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. শামসুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের এই ঘটনার পর আমরা প্রতিটি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে মাইক্রো প্ল্যান করেছি। কোথাও এ ধরনের কোনও পকেট খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজস্বভাবে যে সার্ভে করি তাতে ইপিআই কর্মসূচিতে আমাদের সফলতা শতভাগ। আমাদের নিজস্ব সার্ভের বাইরে অন্য একটা সংস্থার মাধ্যমেও আমরা কাভারেজ ট্যাবুলেশন সার্ভে করি। ওই সংস্থার সার্ভে অনুযায়ী ইপিআই কর্মসূচিতে আমাদের সফলতা ৮২ শতাংশ।’
দুর্গম এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে ডা. শামসুজ্জামান বলেন, ‘পাবর্ত্য চট্টগ্রামসহ দেশের কিছু কিছু এলাকায় আমরা ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকি। যেখানে খুব সহসা যাওয়া যায় না, ওইসব এলাকায় তিন মাস অন্তর অন্তর একটি নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে আমাদের মাঠকর্মীরা টিকা প্রদান করে থাকে। কখনও কখনও ওই এলাকায় একসঙ্গে তিনদিন টিকা প্রদান করা হয়।’
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইপিআই কার্যক্রম নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ইপিআই কার্যক্রম অনেক বেড়েছে। বিশেষ প্রোগ্রাম নিয়ে বিশেষ কৌশলে আমরা ওইসব দুর্গম এলাকায় টিকা প্রদান করছি। পাবর্ত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে ৭২ থেকে ৮২ শতাংশ বাসিন্দা ইপিআই কর্মসূচির আওতায় এসেছে বলে তিনি জানান।
/বিএল/