হুমায়ুন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতে আজ আমরা দিয়াজের পুনঃময়না তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। একই দিন প্রাথমিক একটি প্রতিবেদন জমা দিয়ে আমরা আদালতের কাছে অধিকতর তদন্তের জন্য সময় আবেদন করেছি। এ ব্যাপারে আদালত কোনও আদেশ দেননি।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রথামিক রিপোর্টের মাধ্যমে আদালতকে ধারণা দিয়েছি- আগে দিয়াজের মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা ছিল এখন এটি হত্যা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।’
আদালত সূত্র জানায়, পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দিয়াজকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
পুনঃময়না তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, রাসায়নিক পরীক্ষা,হিস্টোপ্যাথলোজিক্যাল রিপোর্ট, আগের ময়না তদন্ত রিপোর্ট, অন্যান্য বিষয়াদি, ক্রাইম সিন পরিদর্শন, মৃত্যের ছবি (পুলিশের দেওয়া) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ময়না তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখিত জখমের কারণে সে কোমায় চলে যায়। পরবর্তীতে ঝুলে পরার কারণে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়।
ময়না তদন্ত রিপোর্টে বাম হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত মধ্যবর্তী স্থানে কাঁটার কারণে জখম, বাম কাঁধের সামান্য নিচে জখমের চিহ্ন এবং ডান পায়ের উপরের অংশে কাঁটা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ নেতৃত্বে একই বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও ডা. কবির সোহেল এই পুনঃময়না তদন্ত প্রতিবেদনটি তৈরি করেন।
এর আগে গত ২০ নভেম্বর দিয়াজের মৃত্যুর পর ওই দিন রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও পরিবারের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন তৎকালীন হাটহাজারী থানার ইউএনও আফসানা বিলকিস।
সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ ছিল, দিয়াজের গলায় কালচে দাগ, দুই হাতের কনুই থেকে নিচ পর্যন্ত লালচে দাগ ও বাম পায়ের নিচে আঁচড়ের দাগ ছিল।
২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিজ বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৩ নভেম্বর দেওয়া ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি প্রত্যাখান করে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে ছাত্রলীগ নেতা, সহকারী প্রক্টরসহ ১০ জনকে আসামি করে ২৪ নভেম্বর আদালতে মামলা দায়ের ও পুনঃময়না তদন্তের আবেদন করে।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গত ১০ ডিসেম্বর কবর থেকে লাশ তুলে পুনরায় ময়না তদন্ত করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের পর লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা। গত রবিবার (৩০ জুলাই) তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পুনঃময়না তদন্ত জমা দেন চিকিৎসক দল। আজ (০২ আগস্ট) পুনঃময়না তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
/বিএল/