চাকঢালা সীমান্তে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের হাজার হাজার মুসলমান রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের জিরো পয়েন্ট চাকঢালা গ্রামের চেরার মাঠ, হামিদিয়া পাড়া, বড় ছনখোলা, রাবার প্লট, আশার তলী, চা বাগানসহ বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট টিলা ও পাহাড়গুলোতে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেছে। প্রতিদিনই শতশত মানুষ শুকনো খাবার নিয়ে ছুটে আসছে রোহিঙ্গাদের দেখতে।
স্থানীয়রা বলেন, এখানে রোহিঙ্গারা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে। এলাকাবাসীরা শুকনো খাবার না দিলে এখানেও অনেক রোহিঙ্গা মারা যেত। অনেক মানুষ বাইরে জেলা থেকে এসেও তাদেরকে খাবার দিচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল বলেন, ‘এখানে শুধু বাঙালিরাই নয়, পাহাড়িরাও খাবার দিচ্ছে। এ পর্যন্ত আমি এখানে চারবার এসেছি তাদেরকে দেখতে। এখানে যারা আসছে তাদের সবাইকে বলেছি যেন কেউ রোহিঙ্গাদের অসহায়েত্বের সুযোগে কোনও প্রকার ক্ষতি না করে। বিজিবিও রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। ’
কক্সবাজারের ঈদগড় স্টুডেন্ট ফোরাম ক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঈদগড় স্টুডেন্ট ফোরাম ক্লাব থেকে আমরা ছয়জন এসেছি। আমাদের সঙ্গে সেক্রেটারি নুরুল হুদাও রয়েছে। রোহিঙ্গাদের দেখার ও খাবার দেওয়ার জন্যই আমরা এখানে এসেছি।
মিয়ানমারের তঞ্চুগের সিকদার পাড়া থেকে আসা শিশু নাসির বলে, আমাদের ওপর বোমা মারছে, দা দিয়ে কোপাচ্ছে। তাই আমরা প্রাণ বাঁচাতে মা-বাবার সঙ্গে এখানে চলে এসেছি।
আরেক শিশু মির আহমেদ বলে, আমরা এখানে ভালো আছি। প্রতিদিনই ঠিকমত খাবার খেতে পারছি। তবে আমাদের এবার ঈদ করা হবে না, এ জন্য ভাল লাগছে না।
বান্দরবান পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ‘কোনও প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটার জন্য বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের পাহাড়া ও টহল সব কিছুই বাড়ানো হয়েছে। আমরাও সরকারের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছি।’
বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, বাংলাদেশের কোনও সমস্যা নয়। এটা আন্তর্জাতিক দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়। এ বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই এ সমস্যার একটা সমাধান হবে।'
আরও পড়ুন: ক্রিকেটের হাত ধরে অগ্রিম ঈদ উৎসব