পুলিশ ফাঁড়িতে ২ ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে ৪০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

 

ফেনীফেনীর দাগনভূঞার কোরাইশ মুন্সী পুলিশ ফাঁড়িতে দুই ব্যবসায়ীকে তিন ধরে আটকে রেখে ৪০ হাজার টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। দুই ব্যবসায়ীর নাম আমজাদ হোসেন ও সোহেল। তবে, অভিযুক্ত (পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ) এসআই সাইফুল ইসলাম দুই ব্যবসায়ীকে আটকের কথা স্বীকার করলেও উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আমজাদ হোসেন ও সোহেল  বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় আমাদের গ্রামের বাড়ি উপজেলা সিন্দুরপুর ইউপির চন্দ্রপুর গ্রাম থেকে মোটরসাইকেলে আব্দুর নবী গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলাম। ওই সময় আব্দুর নবী গ্রামে আমাদের গতিরোধ করেন ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম। সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলসহ আমাদের ফাঁড়িতে নিয়ে যান। এরপর ফাঁড়ির হাজতে আটকে রেখে বিভিন্ন মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে আমাদের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন তিনি।’

ওই দুই ব্যবসায়ী বলেন, ‘দাবিকৃত টাকা দেওয়ার মতো আমাদের সামর্থ্য নেই বলে জানালেও ছেড়ে দিতে রাজি হননি এসআই সাইফুল। পরে বিষয়টি আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইউপির সাবেক মেম্বার আবুল কাশেমকে জানানো হয়। থানার সঙ্গে আবুল কাশেমের সম্পর্ক ভালো থাকায় তিনি আমাদের কাছ থেকে নিয়ে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দেন। এরপর বুহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আমাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।’  তারা আরও বলেন, ‘আমাদের আটকে রাখা ও টাকা আদায়ের বিষয়টি কাউকে জানালে অন্য মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন বলেও হুমকি দেন ওই এসআই।’

উৎকোচের বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার ওই দুই ব্যবসায়ীকে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর অভিযোগে আটক করি। তাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলার ওয়ারেন্ট আছে কিনা, তা যাছাই-বাছাইয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

এ প্রসঙ্গে সাবেক ইউপি মেম্বার আবুল কাশেম বলেন, ‘ওই দুই ব্যবসায়ীকে তিন দিন ধরে থানায় আটকে রাখার বিষয়টি তাদের পরিবারের সদস্যরা আমাকে জানান। আমি খবর পেয়ে থানার সঙ্গে মধ্যস্থতা করে তাদের ছাড়িয়ে নেই।’ তবে  ৪০ টাকা উৎকোচের বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই প্রসঙ্গে দাগনভূঞা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ  বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমন কোনও অভিযোগ কেউ করেননি। তবে এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’