গতকাল সন্ধ্যায় যষ্ঠিপূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বুধবার উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মহাসপ্তমী বিহিত পূজা। ঢাকের বাদ্যবাজনা, স্ততি আকারে মন্ত্রপাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫২৮টি পূজা মণ্ডপ। আজ (বুধবার) মহাসপ্তমীতে শাস্ত্রমতে ষোড়শ উপাচারে (অথাৎ ষোলটি উপাদানে) দুর্গা দেবীর পূজা হচ্ছে। এরমধ্যে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা, চক্ষুদান, স্নান,বস্ত্রদান করা হয়। তিথি অনুসারে একই সঙ্গে দশভূজা দেবীকে আসন, নৈবেদ্য, বিল্লপত্র, তুলসি,আতপ চাল,তিল হরতকি, পুষ্পমাল্য ও চন্দন নিবেদন করা হয়। পূজা শেষে দুর্গা মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলী দেয় ভক্তরা।
মহাসপ্তমীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কালাইশ্রীপাড়া টাউনে সার্বজনিন দূর্গা পূজা মণ্ডপে উপস্থিত ভক্ত সুপ্তি রানী দাস, পলি মোদক, পার্থ সারথী দাস, সুমন দাস, পুস্পাঞ্জলি দেওয়ার পর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এবছর মায়ের রাতুল চরণে বিল্লপত্র পুস্প দিয়ে তারা পুস্পাঞ্জলি দিয়েছেন, তারা দূর্গা মায়ের কাছে নিজের পরিবারের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া দক্ষিণ কালীবাড়ী মন্দিরের পুরোহিত অচিন্ত চক্রবর্তী জানান, রাজা সুরথ রাজ্য ফিরে পাওয়ার আশায় বসন্ত কালে যে পূজা করেছিলেন তাকে বাসন্তি পূজা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অন্যদিকে ত্রেতা যুগে প্রভু রামচন্দ্র রাবনকে বধ করার জন্য শরৎ কালে যে পূজা করেছিলেন তাকে অকাল বোধন এবং শারদীয় দূর্গা উৎসব হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
তিনি জানান, আজ ( বুধবার) ভক্তরা পুস্পাঞ্জলি দিয়েছেন। তারা মায়ের কাছে নিজের ও পরিবার জন্য প্রার্থনা করেছেন। পাশাপাশি দেশের সব মানুষ যেন এক সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেছেন। পুরোহিত অচিন্ত আরও জানান, আজ রাতে অনুষ্ঠিত হবে দেবীর অর্ধরাত্রি বিহিত পূজা (কালী পূজা)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে মহাঅষ্টমী পূজা। একই সাথে বিভিন্ন মন্ডপে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন রাতে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধিপূজা।
এদিকে দূর্গা পূজাকে শান্তি পূর্ণ করার লক্ষে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, প্রতিটি পূজা মণ্ডপে সাদা পোষাকের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি আনসার, পোষাক পরা পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া যে কোনও অপ্রিতিকর ঘটনা মোকাবেলায় বিজিবিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সন্ধ্যায় আরতি দেওয়ার মাধ্যমে উৎসব-আনন্দে মেতে উঠবে শিশু-কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ।