বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদককে রোজিনা জানায়, ছোট ভাই ইউনুস (৩) ও ছয় বছরের বোন জান্নাত আরা রয়েছে তার সঙ্গে। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে ঠাঁই হলেও পেঠের ক্ষুধায় চলে এসেছে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। খাবারের আশায় ছুটছে ক্যাম্পের এদিক-ওদিক। বুধবার বিকালে বালুখালী মাদ্রাসার গেটের সামনে তাদের দেখা মেলে।
বাবা-মা হারানো রোজিনা বলে, ‘নিশ্চিত বাবা-মাকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী। ধরে নিয়ে যাওয়ার সময়ই তাদের নির্যাতন করা হচ্ছিলো। সেনাবাহিনী যখন বাবা-মাকে নিয়ে যাচ্ছিল তখন মায়ের চিৎকার শুনেছি।’
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর রোজিনা আবার বলতে শুরু করে। সে জানায়, বাংলাদেশে প্রবেশের পর না খেয়ে দিন কাটে তাদের। কুতুপালং এর রাস্তায় তারা কাঁদতে থাকে ক্ষিদার জ্বালায়। একপর্যায়ে বিজিবির এক সদস্য তার হাতে ৫০ টাকা দিয়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়। এখন প্রতিদিন রাস্তায় ভিক্ষা করে যা পায় তা কোনও রকম তিন জনে খায়। একদিন খেতে পারলেও অন্যদিন না খেয়ে থাকে।
রোজিনার ছোট বোনটি হাতে একটি পানির বোতল। এই পানির বোতলই তাদের সেদিনের সম্বল। সেই কুতুপালং থেকে বালুখালী পর্যন্ত দীর্ঘপথ হেঁটে এসেও কিছু পায়নি তারা। যে ত্রাণগুলো গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে তাও তারা পাচ্ছে না। কারণ কোলে ছোট ভাই, আরেক হাতে ধরা ছোট বোন। ‘ত্রাণ পেতে গেলে তো প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকতে হবে’ বলে রোজিনা।
অনাথ এই তিন শিশুর গতিবিধি দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করেন এ প্রতিবেদক। দেখা গেছে, ত্রাণের গাড়ি থেকে বিতরণ করা ত্রাণ তো দূরের কথা, রাস্তায় মানুষের কাছ থেকে ভিক্ষাও পাচ্ছে না তারা। কারণ রোহিঙ্গাদের লাখো সত্য মিথ্যা গল্পের মাঝে এই শিশুদের কষ্টের কাহিনী কেউ শুনতে চায় না। করতে চায় না বিশ্বাসও। ভিক্ষা চাইতেই হাজারো মানুষের ধমক। তাই অসহায় এই তিন শিশুর জীবন অনেকটাই বিপন্ন।