‘লংগদুর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বানানো হবে টেন্ডারের মাধ্যমে’

লংগদুতে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর

রাঙামাটির লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের  বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হবে টেন্ডারের মাধ্যমে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দুইশ’ ১২টি পরিবারের বাড়ি বানানোর জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। অন্যদিকে টেন্ডারের মাধ্যমে বাড়ি বানানো নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন লংগদুর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন,‘টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লংগদুর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাড়ি বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঠিকাদার বাছাইয়ের কাজ শুরু করা হবে। লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লংগদু এলজিইডি ও লংগদু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলে কাজগুলো তদারক করবেন। টাকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি বানানোর কাজ  শুরু করা হবে।’

তিন টিলা গ্রামের বাসিন্দা ও ১ নং আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন,‘এই ধরনের সিদ্ধান্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে বাড়ি বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাড়ি বানানো হলে কাজের মান ভালো হবে না। ফলে ওই পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তিনি আরও বলেন,‘আমরা আশা করছি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবশ্যই আমাদের ডাকবেন। আলোচনার মাধ্যমে কি করা যায় তা পরে দেখা যাবে। ’

 লংগদু জনসংহতির সাধারণ সম্পাদক মনি শংকর চাকমা বলেন, ‘আমরা টাকা চেয়েছিলাম। যেহেতু এটা সম্ভব না এবং তারা ঘর বানিয়ে দিবেন,সেহেতু আমারা দাবি করেছিলাম প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে এটি করা হোক। যদি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাড়ি বানানো শুরু হয়, তাহলে আমাদের আর কিছুই বলার থাকবে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কথা সরকার একটু বিবেচনা করবেন আমরা এমনটাই আশা করছি।’

গত ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যুগ্ম-সচিব ও আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের পরিচালক আবুল কালাম শামসুদ্দিনের স্বাক্ষরিত চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লংগদু নির্বাহী অফিসার মোসাদ্দেক মেহ্দী ইমাম। গত ১১ জুলাই ইস্যু করা ওই চিঠিতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের (সংশোধিত) ডিপিপি অনুযায়ী আইটি ভ্যাটসহ প্রতিটি ঘরের প্রাক্কলিত ব্যায় পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আইটি ভ্যাট (১০ শতাংশ) বাদে প্রতিটি ঘরের প্রাক্কলিত খরচ প্রায় চার লাখ ৭২ হাজার টাকা।

প্রসঙ্গত, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের চার মাইল (কৃষি গবেষণা এলাকা সংলগ্ন) নামক স্থান থেকে গত ১ জুন যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই মরদেহ খাগড়াছড়ি থেকে লংগদুর বাইট্টাপাড়ার নিজ বাড়িতে নেওয়া হলে স্থানীয়রা একটি মিছিল নিয়ে লংগদু উপজেলা সদরে যায়। পথে মিছিল থেকে লংগদুর তিনটি গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

আরও পড়তে পারেন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আইল্যান্ড যেন ফুল বাগান