রবিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে এই হত্যাকাণ্ড মানব সভ্যতার বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, এই হত্যাকাণ্ড মানবতার বিরুদ্ধে, শান্তির বিরুদ্ধে। শান্তিকামী বিশ্বকে আজ যারা অশান্তির বিশ্বে পরিণত করেছে, যারা রোহিঙ্গাদের স্বদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে তাদের পক্ষ কেউ সমর্থন করবে না এটাই আমরা আশা করবো।’
মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথমে সামান্য বিশৃঙ্খলা ছিল। কিন্তু এখন সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে গোটা এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় ফিরে এসেছে। ক্যাম্পের সড়ক, স্যানিটেশন ও অস্থায়ী শেড নির্মাণের ব্যবস্থা করছে সরকার। রোহিঙ্গা স্বদেশে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের অস্থায়ী নিবাস হিসেবে ভাসান চরে ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের অঙ্গীকার, আমাদের যা আছে তা দিয়ে ভাগাভাগি করে রোহিঙ্গারা যতদিন থাকবে ততদিন আমরা তাদের পাশে থাকবো।’
এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মানবিক নেত্রী হিসেবে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কক্সবাজারের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে সোলার লাইট সংযুক্ত করে রোহিঙ্গা পল্লীগুলোকেও আলোকিত করা হবে।’
মিয়ানমারের এক মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের মন্ত্রী দুইদিনের মধ্যে রেসপন্স করবেন এবং মিয়ানমারের নাগরিকদের সম্মানের সঙ্গে স্বীকৃতি দিয়ে সেদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকের হোসেন প্রমুখ।
আরও পড়ুন- রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবির নেপথ্যে