লাঞ্ছনার শিকার তিন সাংবাদিক হলেন দৈনিক প্রথম আলোর ফটোগ্রাফার জুয়েল দাশ, দৈনিক আজাদী পত্রিকার ফটোগ্রাফার আমিন মুন্না ও ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপারসন পারভেজ রহমান। এদের মধ্যে দুই ফটোগ্রাফারকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল ইফতেখার লাঞ্ছিত করেন। অন্যদিকে পারভেজ রহমান ভিডিও করতে গেলে ‘শিবির নাসির’ তাকে লাঞ্ছিত করেন।
জুয়েল শীল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিবির ক্যাডার নাসিরের মামলার শুনানির ছবি তুলতে সহকর্মী দৈনিক আজাদীর ফটোগ্রাফার আমিন মুন্নাসহ আদালতে গিয়েছিলাম। আদালত প্রাঙ্গণে আমাদের মোটরসাইকেলটি একপাশে রেখে ভেতরের দিকে যাচ্ছিলাম। কনস্টেবল ইফতেখার এসে আমাদের গাড়ি এখানে কেন রেখেছি, তা নিয়ে গালিগালাজ করতে থাকে। কোনও কথা না শুনেই ওই পুলিশ কনস্টেবল আমাদের কিল-ঘুষি মারতে থাকে।’
এদিকে, পুলিশের হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
এ খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ সভাপতি শহীদ উল আলম, সিইউজে অর্থ সম্পাদক উজ্জ্বল ধর, প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরীসহ সাংবাদিক নেতারা। পরে তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানান, সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় কনস্টেবল ইফতেখারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে রায়ের পর এজলাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ছবি তুলতে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির ক্যামেরাপার্সন পারভেজ রহমানকে গালিগালাজ করেন নাসির।
ডিবিসির চট্টগ্রাম ব্যুরো ইনচার্জ মাসুদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায় ঘোষণা শেষে এজলাস থেকে বেরিয়ে আসার সময় ছবি তুলতে গেলে নাসিরের অনুসারীরা পারভেজ রহমানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিবির নাসির তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন। একপর্যায়ে তাকে পানির বোতল ছুড়ে মারতে উদ্যত হয়।’
আরও পড়ুন:
পুলিশের ওপর হামলা: ‘শিবির নাসিরের’ পাঁচ বছর কারাদণ্ড