এর আগে দানোৎসব উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেইন কর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে বেইনঘর উদ্বোধন করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। পরে চরকায় সুতা কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এ বছর রাজবন বিহারে ১৩০টি বেইনে অন্তত ৫২০ জন নারীকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও সুতা লাগানো, সেদ্ধ, রং, টিয়ানো, শুকানো, তুম করা, নলী করা, বেইন টানার কাজে আরও শতাধিক পুরুষকর্মী অংশ নেন।
শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চীবর সেলাই শেষে চীবর দান করা হয়। এসময় ‘সাধু’ ‘সাধু’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় পুরো রাজবন বিহার। বৃহস্পতিবার রাতব্যাপী কঠিন চীবর প্রস্তুত করে শুক্রবার বেলা আড়াইটায় রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবিরের হাতে কঠিন চীবরটি তুলে দিয়ে ভিক্ষুসংঘকে দান করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।
চীবর তৈরির পর শুক্রবার দুপুর দুইটায় শোভাযাত্রা সহকারে কঠিন চীবর ও কল্পতরু মঞ্চে আনা হয়। পঞ্চশীল গ্রহণের পর দুপুর আড়াইটায় বনভান্তের মানব প্রতিকৃতির উদ্দেশ্যে কঠিন চীবর উৎসর্গ করা হয়। এসময় বনভান্তের প্রতিনিধি হিসেবে এ চীবর গ্রহণ করেন আবাসিক প্রতিনিধি শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির।
চীবর দানে শ্রীমৎ প্রজ্ঞালষ্কার মহাস্থবির বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে উৎসবে।
গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় মহাউপাসিকা বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা এবং সুতা রং করে কাপড় বুনে তা সেলাই করে চীবর (ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র) দান করে এই কঠিন চীবরদানের সুচনা করেন আড়াই হাজার বছর আগে। এই পদ্ধতিতে দান করলে কায়িক, বাচনিক মানসিকভাবে অধিক পরিশ্রম হয় এবং অধিকতর পুণ্যলাভ হয় বলে বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) ১৯৭৪ সালে রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার তিনটিলা বন বিহারের দায়ক-দায়িকাদের দিয়ে এই কঠিন চীবর দানোৎসবের পুনঃ প্রবর্তন করান।
চীবন দান অনুষ্ঠানে রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক চাকমা সার্কেল চিফ রাজা দেবাশীষ রায়, চাকমা রানী ইয়েন ইয়েন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর জোন কমান্ডার রেদওয়ানুল হকসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, কঠিন চীবর দান একটি মহৎ দান। এই দানের মধ্যে দিয়ে ভিক্ষু ও পূর্নার্থীদের মিলন মেলায় রূপ নেয়। এই দান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে সাম্প্রাদায়িক সম্প্রতি বিরাজ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।