এর আগে রবিবার দুপুরে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু জাফর স্ব-শরীরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আদালত পরিদর্শক মাহাবুবুর রহমানের কাছে আট পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি জমা দেন।
এ ব্যাপারে আদালত পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, মামলার অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মামলার নির্ধারিত তারিখে নির্দিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে শুনানি হবে। আদালত পরবর্তীতে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ যেকোনও আইনগত সিদ্ধান্ত দেবেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ অক্টোবর রসরাজ দাস নামে হিন্দু সম্প্রদায়ের জেলে পরিবারের এক তরুণ ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননা করেছে এমন অভিযোগ ওঠে। পরদিন ৩০ অক্টোবর একাধিক ইসলামি সংগঠন উপজেলা সদরে মাইকিংয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ আহ্বান করে। পরে মিছিল নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরে পৃথক দুটি প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেয়। ওই সমাবেশ থেকে লাঠিসোটা হাতে নিয়ে নাসিরনগর উপজেলা সদরের দাসপাড়া, গাঙ্কুল পাড়া, ঘোষ পাড়া, নমঃশুদ্র পাড়া ও ঠাকুরপাড়ায় একযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ১০ মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে কয়েক দফায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় আরও একাধিক বাড়িতে।
এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে আড়াই থেকে তিন হাজার লোককে আসামি করে নাসিরনগর থানায় মোট ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় মোট ১২৪ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। বর্তমানে আসামিদের সবাই জেল থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে।
এ সংক্রান্ত আগের খবর:
নাসিরনগরে তাণ্ডব: ২২৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র