সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত তিন দিনে কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শতাধিক রোগী এসেছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও নারী। মঙ্গলবার বিকালে পর্যন্ত ৪০জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি শিশু। এছাড়া বর্হিবিভাগ থেকে গত তিন দিনে অর্ধশত ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালে সোনাপুর গ্রামের মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘রবিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে বৃষ্টিতে ভিজে পুকুরে গোসল করে ঘরে এসে ভাত খাওয়ার পর হঠাৎ পেটে ব্যথা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর থেকে ডায়রিয়া শুরু হয়। ধীরে ধীরে ডায়রিয়া বাড়তে থাকায় দ্রুত হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন।’
একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬ মাসের শিশু সাজেদুল ইসলামের মা ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘মায়ের দুধ খাওয়ানোর পর হঠাৎ করে ডায়রিয়া শুরু হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। এখন পর্যন্ত সুস্থ না হওয়ায় দুঃচিন্তায় আছি।’
এদিকে,আড়াই’শ শয্যায় বিশিষ্ট ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত ৫২ নারী,শিশু ও বৃদ্ধ ভর্তি হয়েছেন।
এ ব্যাপারে সদর হাসাপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. অসীম সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,মঙ্গলবার পর্যন্ত গত তিন দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শতাধিক রোগী হাসপাতালের বহির্বিবিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে কোনও প্রকার ওষুধের সংকট নেই। চিকিৎসকেরা রোগীদের সেবা দিতে যথাসার্ধ্য চেষ্টা করছেন।
অসময়ে বৃষ্টি হওয়া ও ভাইরাস জনিত কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদেরকে শুষ্ক স্থানে ও বৃষ্টির পানি থেকে দূরে রাখাসহ সবাইকে খাবারের ক্ষেত্রে ও সাবধানতা অবলম্বনের কথা বলছেন ডা. অসীম সাহা।